মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর >>> ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামে অবস্থিত দহিসারা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা নিয়মবহির্ভূতভাবে দেখার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি ও কমন রুমে বসে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে পরীক্ষার খাতা দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় খাতা দেখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে ‘সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাম দহিসারা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন।অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন হেড এক্সামিনার হিসেবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে নিজে ৬০০টি খাতা সংগ্রহ করেন। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খাতা নিরীক্ষণের জন্য তার কাছে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রায় ২ হাজার ১০৪টি খাতা রয়েছে বলে জানা গেছে।তবে এসব খাতা নির্ধারিত পরীক্ষক বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পরিবর্তে হাইস্কুলের শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে দেখানো হয়েছে।দিনের বেলায় প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি ও কমন রুমে বসেই এসব খাতা দেখা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছেন। ভিডিওতে তাদের খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।এ বিষয়ে দহিসারা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও হেড এক্সামিনার আত্তাপ হোসেন বলেন, “আমি হেড এক্সামিনার। বোর্ড থেকে আমি নিজে ৬০০টি খাতা নিয়ে এসেছি। বাকি খাতাগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিরীক্ষণের জন্য আমার কাছে এসেছে। সব মিলিয়ে ২ হাজার ১০৪টি খাতা আমার কাছে রয়েছে। আমি এসব খাতা শিক্ষকদের দিয়ে নিরীক্ষণ করিয়েছি।”খাতা দেখার সময় ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন নিজেই বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে এসে তাদের দিয়ে খাতা দেখিয়েছেন। তারা অধ্যক্ষের অধীনে থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই খাতা দেখতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।তাদের অভিযোগ, এভাবে খাতা মূল্যায়নের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছেন। টিউটর খরচ বছরে ৭ লাখ টাকা পায় অধ্যক্ষ এবং এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা দেয় মাত্র শিক্ষকদের দেয়।এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হাসান বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষার খাতা কোনোভাবেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অন্য কর্মচারীদের দিয়ে দেখানো কিংবা নিরীক্ষণ করার সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ফরিদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিষ্ণু পদ ঘোষাল বলেন, “বোর্ড থেকে যে শিক্ষক বা পরীক্ষক খাতা গ্রহণ করবেন, নিয়ম অনুযায়ী তাকেই খাতা দেখতে হবে। অন্য কাউকে দিয়ে খাতা দেখানো যাবে না। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা হাইস্কুলের শিক্ষক বা কর্মচারীদের দিয়ে দেখানো অনিয়ম ও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা শিক্ষক, অফিস সহকারী, পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে দেখানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।