ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অসম্ভব ও জটিল অবস্থানে আটকে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আইর। ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাকারী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান ও সীমাবদ্ধতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
আইরের মতে, ট্রাম্প চাইলেও এখন এই যুদ্ধ থেকে সহজে সরে আসতে পারবেন না। তার ভাষায়, ‘ট্রাম্প আরো উত্তেজনা বাড়াতে পারবেন না। কারণ, তিনি বুঝতে পারছেন, তা করলে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালাবে। আর এই মুহূর্তে তিনি তা মেনে নিতে প্রস্তুত নন।’ অর্থাৎ, পাল্টা হামলার ঝুঁকি ট্রাম্পের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
সাবেক এই কূটনীতিকের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনা কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক চুক্তির মতো নয়। তিনি বলেন, ‘এটি যদি ব্যবসা হতো, তাহলে তিনি দেউলিয়া ঘোষণা করে অন্য কোনো বিষয়ে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তাতে হরমুজ প্রণালি খুলবে না। তাই তিনি চাইলেও সরে যেতে পারবেন না।’ অর্থাৎ, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ট্রাম্পের জন্য পিছু হটার সুযোগ সীমিত।
এদিকে ইরানও ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তিনি সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দিহান। আইরের মতে, ইরানের এই অবিশ্বাসই বর্তমান আলোচনাকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। তারা মার্কিন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না, যা সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইর জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চুক্তির শুরুতেই বেশি অর্থ সুবিধা চায়। এর মূল কারণ হলো, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনকে তারা বিশ্বাস করে না। ইরান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেবে না। এ কারণে তারা নিজেদের অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড় করার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চায়।
এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্য থেকেও তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। তাদের আশঙ্কা, প্রাথমিক কোনো চুক্তির পর এই প্রক্রিয়া আর এগোবে না। এ ক্ষেত্রে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির উদাহরণ টেনে আইর বলেন, গাজা বিষয়ক চুক্তিগুলোও প্রথম ধাপের পর আর আলোর মুখ দেখেনি। ইরান ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে।
পরিশেষে, যুদ্ধ বন্ধ ও পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে বিরাজমান পারস্পরিক গভীর অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলছে। সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিকের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই এবং ইরানের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিলতর করে তুলেছে।
সূত্র: Daily Amar Desh


মন্তব্য