মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘একই নাটকীয় কূটনীতি বারবার চালিয়ে যাওয়ার’ গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েও বারবার তা স্থগিত করার ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। গালিবাফের মতে, ওয়াশিংটন কখনো সামরিক হুমকির ভয় দেখাচ্ছে, আবার কখনো আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা তাদের ব্যর্থ চাপ প্রয়োগের কৌশলেরই বহিঃপ্রকাশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘বিরাট হামলা আসছে, অপেক্ষা করুন, আবার দরকার নেই, তারা আলোচনা করতে চায়’—এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণই ট্রাম্পের নাটকীয় কূটনীতির পরিচয়। তিনি আরও বলেন, ভয় দেখানো, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের এই কৌশল কোনোভাবেই সফল হবে না। গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।
এর আগে শনিবার ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমঝোতা এখন খুব কাছাকাছি। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এই সম্ভাব্য চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিকভাবে উন্মুক্ত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে। এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের পথের স্থানাঙ্ক নিয়ে দুই দেশ একমত হওয়ায় চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর আগ পর্যন্ত এটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। ওই হামলার মাধ্যমেই মূলত কয়েক মাস ধরে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হয়। ট্রাম্পের দাবি করা চুক্তির মূল কাঠামো নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থান এখনো স্পষ্ট, যেখানে গালিবাফ ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য