বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমেছে। এই পরিস্থিতির ইতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতির সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৯২ দশমিক ৪৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচারস বা আগাম দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৪৯ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কূটনৈতিক সমাধানের আশায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কাতার ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মন্তব্যের পর তেলের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক জানান, জ্বালানি তেলের এই দরপতন স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তেলের দাম কমায় স্বল্পমেয়াদি সুদের হারের পূর্বাভাসেও পরিবর্তন এসেছে।
সাধারণত জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করে, যা ফেডারেল রিজার্ভকে দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বেশি রাখতে উৎসাহিত করে। আর উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চিত্রটি ভিন্ন। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় ধরনের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম আউন্সপ্রতি ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৯ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৪২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৫৫ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে।
সূত্র: Jugantor – International


মন্তব্য