হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের তীব্র সময়ে এ দাম ১০০ ডলারেরও বেশি ছিল। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ১টা ১০ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা প্রায় ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ৭৯.৬২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১২ সেন্ট বা ০.১৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫.৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এই দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
জ্বালানি তেলের দামের এই পতনের প্রভাব দ্রুতই সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে যানবাহনের জ্বালানি ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামেও সরাসরি প্রভাব পড়ে। কারণ বাজারে পৌঁছানো অধিকাংশ পণ্যই পেট্রোলিয়ামচালিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়, ফলে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কমে আসার সম্ভাবনা থাকে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনায় যদি কোনো কার্যকর সমঝোতা না হয়, তবে বাজারের বর্তমান এই ইতিবাচক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ চেইনের অনিশ্চয়তা এখনো তেলের বাজারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আছে।
সূত্র: Daily Amar Desh – International


মন্তব্য