আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের শঙ্খ নদীর চরের উর্বর জমিগুলো এখন আর সবুজের সমারোহে নেই। আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই ‘সবজি ভাণ্ডার’খ্যাত এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে উর্বর পলিমাটির ওপর জমেছে বালুর মোটা আস্তরণ। প্রকৃতির এই নির্মম খেলায় সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হাজারো কৃষক। প্রাথমিক হিসাবে এ অঞ্চলে সবজি ও ধান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।গত ৫ জুলাই থেকে টানা আট দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে চন্দনাইশের ধোপাছড়ি, কাঞ্চননগর, ছৈয়দাবাদ, বরমা ও বৈলতলীসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিক্ষেত তলিয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত। পলিমাটির ওপর বালুর আস্তরণ পড়ায় জমিগুলো এখন চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শুধুমাত্র চন্দনাইশেই ৯১০ হেক্টর সবজিক্ষেত, আউস ধান ও আমনের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকের হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছে শঙ্খ চরের বাতাস। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রহিম উদ্দিন (ছদ্মনাম) জানান, এনজিও ও ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। আশা ছিল ভালো ফলন হবে, কিন্তু এখন ঋণের বোঝা আর সংসারের খরচ নিয়ে দিশেহারা তিনি।চাষিদের শঙ্কা, শঙ্খ চরের উৎপাদিত সবজি চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত সরবরাহ হতো। এবারের বন্যায় বড় ধরণের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে সবজির বাজার। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রঘুনাথ নাহা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আজাদ হোসেনসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘বালুর আস্তরণ জমে জমিগুলো চাষাবাদের উপযোগী করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি। সরকার তাদের বীজ, সার এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছে।কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। আর দীর্ঘমেয়াদী এই ক্ষতি পুরো দেশের সবজি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই সময়োপযোগী ও জরুরি দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মন্তব্য