আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে এনায়েত আলী ফকির (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত এনায়েত আলী ফকির নিজেকে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে দাবি করেছেন।এ ঘটনায় রায়হান রনি (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগীকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।আহত এনায়েত আলী ফকিরের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে এলাকার একটি বিয়ের আকদ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে, যার ফলে তার ডান হাত ও ডান পায়ের উরুতে আঘাত লাগে। এরপর ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে রাস্তার পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।ভুক্তভোগী এনায়েত আলী ফকির অভিযোগ করেন, বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে জিহান, কামরুল ও ছাবেরের নেতৃত্বে ৮-১০ জন তাকে ঘিরে ফেলে। পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিকভাবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং অতীতেও তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।আহতের স্ত্রী জিন্নাত আরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় ডোবায় ফেলে রেখে গিয়েছিল তারা। গত শুক্রবার রাতেও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনা ও ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে তার স্বামী ও পরিবারকে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে।এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান,খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত হিসেবে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রায়হান রনি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





মন্তব্য