আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (WTC) হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নতুন দাপ্তরিক ঠিকানা। কাস্টমস হাউসের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের মধ্যে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস ও ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ স্পেস ভাড়ার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে পরিচালিত হবে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কাস্টমস হাউসের নিজস্ব নতুন ভবন নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
চেম্বারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চেম্বার প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মোতাহার হোসেন এবং কাস্টমস হাউসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কমিশনার অব কাস্টমস মোহাম্মদ শফি উদ্দিন।
চেম্বার প্রশাসক মোঃ মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এর কার্যক্রম একটি আধুনিক ও সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ভবনে স্থানান্তরের ফলে ব্যবসায়ীদের সেবা গ্রহণ আরও সহজতর হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন,চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও থাইল্যান্ডের অনারারী কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।
কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন।কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট শেখ আবু ফয়সল মোঃ মুরাদ।সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি এস. এম. সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।
এ সময় চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, ফরিদ আহমেদ চৌধুরীসহ কাস্টমস ও চেম্বারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চেম্বারের যুগ্ম সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত দেশের প্রথম ও একমাত্র এই ২৪ তলা ভবনটি আন্তর্জাতিকমানের স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:বিশাল আয়তন: প্রায় ৭ লক্ষ বর্গফুটের বিশাল কাঠামো।
পার্কিং ও যাতায়াত: ৩টি বেইজমেন্টে ২৫০টি গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা এবং ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড।বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা: ২.৪ মেগাওয়াট বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে শক্তিশালী জেনারেটর। সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ও সশস্ত্র আনসার বাহিনী।আইবিএমএস: ইন্টিগ্রেটেড বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ভবনটি নিয়ন্ত্রিত।কনফারেন্স সুবিধা: ৩০০ আসন বিশিষ্ট মাল্টিমিডিয়া কনফারেন্স হল এবং ৬০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল।
এছাড়াও বর্তমানে ভবনটিতে ইনফিনিটি সুইমিংপুল, রুফডেক রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকুয়েট হল এবং ডব্লিউটিসি ক্লাবের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত হবে।


মন্তব্য