এনামুল হক রাশেদী >>> মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz (হরমুজ প্রণালি) আংশিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ‘ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারী গার্ড কর্প্স’ (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই নৌপথে চলাচল বন্ধ থাকবে।৫ মার্চ(বৃহস্পতিবার) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-এর বরাতে আইআরজিসি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির আলোকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার ইরানের রয়েছে।আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধকালীন বিধান অনুযায়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’-এ নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে।’সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের সমর্থক দেশগুলোর কোনো জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেলে সেগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবঃগত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে বলে আন্তর্জাতিক শিপিং সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল’-এর দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথঃবিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ— সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, ইউনাইটেড আরব আমিরাত এবং কাতার থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত সমুদ্রপথের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।আন্তর্জাতিক উদ্বেগঃপরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক জাহাজ মালিক বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে, যদিও বাস্তবে হরমুজ প্রণালির কার্যকর বিকল্প খুবই সীমিত।বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই নৌপথে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


মন্তব্য