আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ফলে জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করে জমি উর্বর করা হচ্ছে। আবার কোথাও মহিষ ও গরু দিয়ে হাল ও মই টেনে কাদামাটি সমান করে চারা রোপণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে জমি। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে কোনো কৃষক-কৃষাণীই ঘরে বসে নেই, মাঠেই কাটছে ব্যস্ত সময়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমি প্রস্তুতের কাজ পুরোদমে চলছে। অনেক স্থানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতের ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। এওচিয়া পশ্চিম গাটিয়া ডেংগা গ্রামের কৃষক আবু কালাম, ওয়াহিদার পাড়া গ্রামের দিদারুল ইসলাম ও আবদুল মজিদ, কাঞ্চনা ইউনিয়নের আব্দুল শুক্রুর এবং আমিলাইশ ইউনিয়নের মুফিজুর রহমান জানান, চলতি মাসের শেষের দিক থেকেই চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, জমি প্রস্তুতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করা হচ্ছে। আবার অনেক জমিতে সেচের পানি দিয়ে হালচাষের পর মহিষ ও গরু দিয়ে মই টেনে জমি সমান করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে চারা রোপণও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরিষা ওঠানোর পর সেই জমিতেও ইরি-বোরো চাষ করা হবে।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরোর বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে পর্যাপ্ত চারা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চারা সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিশ্রমিক, হালচাষ, সার ও সেচের পানির খরচও বেড়েছে। খরচ বাড়লেও চাষাবাদে পিছিয়ে থাকছেন না কৃষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলায় ইরি-বোরো চাষে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে। অধিক ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


মন্তব্য