আনোয়ার হোসেন,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি >>> নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ভিডব্লিউবির সুবিধাভোগী নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইউপি মেম্বর-চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। দুস্থ, ভূমিহীন, অসচ্ছল, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা গরিব নারীদের ভিডব্লিউবির চাল পাওয়ার কথা থাকলেও এর পরিবর্তে সচ্ছল, চাকরিজীবী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের নারীদের সুবিধাভোগীর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ আপত্তিজনক তালিকা বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছে। জানা গেছে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রামের গরিবদের মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।অভিযোগে জানা যায়, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৪৪৭ জন সুবিধাভোগী নারী নির্বাচন করা হয়। এরা প্রত্যেকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সম্মানি ভাতা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়। কিন্তু পরিপত্র উপেক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যানরা সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়। দুস্থ, ভূমিহীন, অসচ্ছল, বিধাবা ও তালাকপ্রাপ্তা কর্মক্ষম নারীর পরিবর্তে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, ইউপি সদস্যের বিত্তবান স্বজন, ছাদপিটা পাকাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারের নারীদের তালিকাভুক্ত করা হয়। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করে ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউএনও সেই তালিকা অনুমোদন দেয়। সুবিধাভোগী নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণস্বরূপ অভিযোগে প্রত্যেক ইউনিয়নের দাখিলকৃত ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকার ক্রমিক নম্বরের পাশে তার সম্পদের বিবরণ উল্লেখ করা হয়। এতে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৮১টি ওয়ার্ডের ৪৭৯ জন তালিকাভুক্ত সচ্ছল সুবিধাভোগীর আর্থিক সক্ষমতার দৃষ্টান্ত প্রকাশ পায়। এ জন্য দাখিলকৃত তালিকা বাতিল করে ভিডব্লিউবির পরিপত্র অনুয়ায়ী তারা প্রকৃত হতদরিদ্র সুবিধাভোগী নির্বাচন চায়। গত সোমবার এ নিয়ে জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এলাকার গরিবরা।১নং অভিযোগকারী উত্তর চাঁদখানা গ্রামের রাকিব শাহ্ জানান, ভিডব্লিউবির সুবিধাভোগী নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে অবগত করলেও তিনি গ্রাহ্য করেননি। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আঁতাত করে তিনি তালিকা অনুমোদন দিয়ে সুবিধাভোগীদের মাঝে গতকাল থেকে কার্ড বিতরণ করছেন।উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলার রহমান এ ব্যাপারে জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন কৃষি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিডব্লিউর ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। এককভাবে ইউপি মেম্বর-চেয়ারম্যানরা নয়, সকলের মতামতের ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়।উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নূরুন্নাহার শাহজাদী জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আঁতাত করে তালিকা অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। হয়তোবা মাঠপর্যায়ে গিয়ে সুবিধাভোগী যাচাই করা সম্ভভ হয়নি। তবে আমরা যেভাবে পারি যাচাই করেছি। ভুলত্রুটি থাকতে পারে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তার কার্ড আটকে রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।


মন্তব্য