১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
নামজারির ঘুষ কাণ্ডে রাঙ্গাবালীর ভূমি কর্মকর্তা  সোবাহান বরখাস্ত মদনে ২০ কেজি গাঁজা সহ নারী ও পুরুষ গ্রেপ্তার। স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: পটিয়ায় ডিসি জাহিদ সুনামগঞ্জে মৎস্যপোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি নূরুল ইসলাম নগরকান্দায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা, বিপাকে কৃষক হাটহাজারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ বসতঘর ছাই: প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, সহযোগিতার আশ্বাস মহেশখালীতে চেকপোস্টে এলজি উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার বাঘায় ১২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে কর্মরত ৫ হাজার স্কুল ২০ হাজার শিক্ষক পটিয়া থানার এসআই জুয়েল জেলার শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার।
আন্তর্জাতিক:
জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক জাতিসংঘের ভোকেশনাল কেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর তল্লাশি, অগ্নিনির্বাপণে বাধা বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ
     
             

নিয়মিত ডিউটি এক প্রতিষ্টানে বেতন তুলেন দুই প্রতিষ্টানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মিজানুর রহমান কুড়িগ্রাম>>> কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।মাদ্রাসার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক বায়জিদ হোসেন ‘প্রশিক্ষণের’ নামে ছুটি নিয়ে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্মরত রয়েছেন।ওই প্রভাষক গত পাঁচ মাস ধরে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতনও উত্তোলন করছেন।মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নূর বখ্ত দাবি করছেন,ওই শিক্ষক উচ্চতর প্রশিক্ষণে থাকায় ছুটিতে আছেন।তবে অধ্যক্ষের এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।মাদ্রাসার শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণে থাকার নামে ওই প্রভাষক সৈয়দপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই পদে কর্মরত।তিনি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়েও অধ্যক্ষের ‘যোগসাজশে’ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন।তার স্থলে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে মাদ্রাসায় আইসিটি বিষয়ের পাঠদান করা হচ্ছে।দুই প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।সৈয়দপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়েব সাইটে ওই শিক্ষকের ছবিসহ কর্মরত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।এ ছাড়াও কলেজটির আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আলিয়া মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে,প্রভাষক বায়জিদ হোসেন এনটিআরসিএ কর্তৃক চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং এমপিওভুক্ত হন।গত জানুয়ারি মাস থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত।তবে মাদ্রাসা থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন।তার ব্যাংক হিসাব নম্বরের লেনদেন দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, ‘আইসিটি বিষয়ে অন্য কোনও শিক্ষক আছেন কিনা আমি জানি না।চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখ থেকে আমি নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি। এ সময় আইসিটি বিষয়ের অন্য কোনও শিক্ষক দেখতে পাইনি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ স্যার ভালো বলতে পারবেন।’মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাষক বায়জিদ হোসেন অধ্যক্ষ নূর বখতের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বেতনও উত্তোলন করছেন।হাজিরা খাতা ও বেতন বিলের কাগজপত্রে কীভাবে তার স্বাক্ষর দেওয়া হয় তা জানেন না অন্য শিক্ষকরা।মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি (টিআর) মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আইসিটি শিক্ষক বায়জিদ হোসেন অনেকদিন ধরে মাদ্রাসায় আসেন না।শুনেছি তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন। কিসের ট্রেনিং তা জানি না।অধ্যক্ষ স্যার বলতে পারবেন।’ সৈয়দপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়েবসাইটে প্রভাষক বায়জিদের নাম ও পদবি সৈয়দপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সারওয়ারর্দী আলম তার বিভাগে বায়জিদ হোসেনের কর্মরত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বায়জিদ আগে আমাদের স্কুল শাখার শিক্ষক ছিলেন। মাদ্রাসায় চাকরি হওয়ার পর তিনি ইস্তফা দেন। কর্তৃপক্ষ তাকে রাখার জন্য প্রস্তাব দিলে তিনি কলেজের প্রভাষক পদে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে পাঁচ মাস আগে কর্তৃপক্ষ তাকে কলেজ প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয়।এমনকি তার স্ত্রীকেও চাকরি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কলেজে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং বেতনও পাচ্ছেন।তিনি যে এখনও ওই মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন তা আমাদের জানা নেই।’একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও বেতন উত্তোলন করা অনৈতিক উল্লেখ করে এই বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘তিনি ওই মাদ্রাসা থেকেও বেতন উত্তোলন করে থাকলে তা অবশ্যই অনৈতিক কাজ।বিষয়টি আমি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাবো।’জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রভাষক বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসার অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলে আমি ৩০ জুন পর্যন্ত প্রশিক্ষণকালীন ছুটি নিয়েছি। আমি যেখানে আছি সেটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান নয়।’এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়ে অন্য কলেজে নিয়োগ নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন কতটা বিধিসম্মত,এমন প্রশ্নের জবাবে বায়জিদ দাবি করেন,তিনি ১ জুন আলিয়া মাদ্রাসায় ইস্তফা দিয়েছেন। এতদিন তিনি যে বেতন উত্তোলন করেছেন তা তিনি ফেরত দিতেও প্রস্তুত আছেন।তবে তার ইস্তফা দেওয়ার দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর বখ্ত বলেন, ‘বায়েজিদ ৩০ জুন পর্যন্ত প্রশিক্ষণকালীন ছুটিতে আছেন। এরপর যোগদান না করলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে ওই শিক্ষকের প্রশিক্ষণের সপক্ষে প্রমাণ এবং এ বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি অধ্যক্ষ।যোগদানের পরপরই প্রশিক্ষণের নামে ছুটি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা এবং উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন উত্তোলন প্রশ্নে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে সমস্যা নেই।’জেলা প্রশাসক ও আলিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘এটি গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page