২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত পটিয়ায় জমির বিরোধ নিয়ে চাচাতো ভাইের হাতে জেঠা তো ভাই খুন। সাতকানিয়ায় বন গবেষণা কেন্দ্রের হাহাকার অর্ধেকের বেশি জমিই দখলে দিরাইয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, গ্রেফতারের দাবি চাটখিলে অকটেন মজুদের অপরাধে জামায়াতের ২ নেতা আটক জামালপুর সদর এখন মাদক ও কিশোর গ্যাং এর কবলে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের পথে। সাতকানিয়ায় বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা হাম-রুবেলা মুক্ত করতে বাঁশখালীতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু। পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিণ্ডদান করলেন টমাস চাকমা দুই যুগধরে সেবা থেকে বঞ্চিত পানছড়ি এলাকাবাসী।
আন্তর্জাতিক:
তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু সমুদ্রতলের ডিজিটাল ধমনী ও ইরান-মার্কিন সংঘাত: বিশ্ব অর্থনীতি কি ধসের মুখে
     
             

স্বাধীনতার ৫২বছরেও আজ ১৩ নভেম্বর। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার “হাতিয়া গণহত্যা দিবস”। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে জঘন্যতম নারকীয় এই হত্যাকান্ডের ইতিহাস “হাতিয়া গণহত্যা” দিবস হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তেমন গুরুত্ব না পেলে ও কুড়িগ্রামবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। দেশের উত্তরবঙ্গের সব থেকে বড় এই গণহত্যা স্বীকৃতি হয়নি“হাতিয়া গণহত্যা দিবস”

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

আজ ১৩ নভেম্বর। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার “হাতিয়া গণহত্যা দিবস”। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে জঘন্যতম নারকীয় এই হত্যাকান্ডের ইতিহাস “হাতিয়া গণহত্যা” দিবস হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তেমন গুরুত্ব না পেলে ও কুড়িগ্রামবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। দেশের উত্তরবঙ্গের সব থেকে বড় এই গণহত্যা স্বাধীনতার ৫২বছরেও “হাতিয়া গণহত্যা” দিবস হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় আজও নিহত শহীদের স্বজনরা স্থানীয়ভাবে পালনভাবে স্বরণ করে আসছে।

১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর শুক্রবার। ২২ রমজান। ট্রেন যোগে পাঁচশর মতো বর্বর পাকিস্থানি সৈন্য উলিপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় কুড়িগ্রাম থেকে। পথিমধ্যে ৩ ভাগ হয়ে হাতিয়ার দিকে যাত্রা করে তারা। সেই নারকীয় রক্তঝরা দিনটি ছিল ১৩ নভেম্বর ২৩ রমজান শনিবার। গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষ সেহরী খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আবার অনেকেই ফজরের নামাজের সুমধুর আজানের ধ্বনি শুনে নামাজের জন্য মসজিদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর মর্টার সেল আর বন্দুকের অবিরাম গুলিবর্ষনে প্রকম্পিত হয়ে উঠে হাতিয়ার দাগারকুটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রাম গুলো। সহজ সরল নিরীহ মানুষগুলো কিছু বুঝে উঠার আগেই পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার,আলবদর,আল-সামস বাহিনী মিলে গ্রামের বাড়ী-ঘরে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস যজ্ঞ চালায়। আর সাথে চলতে থাকে লুটপাট ও নির্যাতন। এরকম পরিস্থিতিতে এলাকার নিরীহ মানুষজন জীবন বাঁচানোর জন্য এদিক ওদিক এলোাপাতারী ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর ছোড়া বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণে মানুষজন জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেত, ঝোপ-ঝাড়ে শুয়ে জীবন রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। অনেকে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বাচাঁনোর চেষ্ঠা করে। কিন্তু অসহায় মানুষের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে আসে এলাকার আকাশ-বাতাস। এসব অসহায় মানুষের জীবন বাচাঁনোর চেষ্ঠা মুহুর্তেই শেষ হয়ে যায়। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সহযোগীতায় আত্মগোপন করা মানুষগুলোকে ধরে নিয়ে এসে দাগারকুটি গ্রামে সারিবদ্ধ ভাবে ৬৯৭ জনকে নির্দয় ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে সেদিন মায়ের কোলের শিশুটিও রক্ষা পায়নি। সারা দিন ব্যাপী চলে হানাদার বাহিনীর হত্যা আর অগ্নিসংযোগ। আগুনে পুড়ে যায় বাগুয়া অনন্তপুর,দাগারকুটি,হাতিয়া বকশী,রামখানা,নয়াদাড়া,নীলকন্ঠ,যমুনা,মন্ডলেরহাটসহ আশ পাশের গ্রামের শতশত ঘর-বাড়ী। মুহুর্তে গ্রামগুলো পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। সেদিন পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার,আল-বদর, আল-সামস বাহিনীর সহযোগীতায় উপজেলা শহর হতে প্রায় ৮কিঃ মিঃ পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের কোল ঘেষে হাতিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতশত মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। সেগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। দাগারকুটি গ্রামটিকে ঘিরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে এলাকার মানুষজন প্রতি বছর শহীদদের স্মরণ করে আসছে।

কিন্তু গত আড়াই দশকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে দাগারকুটি গ্রামটিকে বিলীন করে দিয়েছে। বর্তমানে অনন্তপুর বাজারের পশ্চিম দিকে নতুন করে স্মৃতিসৌধ করে দিবসটি পালন করে আসছে শহীদ পরিবারগুলো সহ উলিপুরবাসী। গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারগুলো এবং কুড়িগ্রামবাসী “হাতিয়া গণহত্যা দিবস” হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার দাবী জানানো হয়।

হাতিয়া গণহত্যা বিদস দিবস পালন কমিটির আয়োজনে সোমবার সকালে অনন্তপুরে শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনসভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,কুড়িগ্রাম-৩আসনের এমপি অধ্যাপক এমএ মতিন,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু,উপজেলা নিবাহী কমকর্তা আতাউর রহমান,জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মতি শিউলি, আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আহসান হাবীব রানা,উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা,হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শায়খুল ইসলাম নয়া প্রমুখ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page