১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
রুহিয়ায় ভোটকেন্দ্র ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ইউএনও রাজশাহী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে: ইউএনও পবা মানসম্মত শিক্ষা ও সৎ মানুষ গঠনে অভিভাবক-শিক্ষক যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান নারীর নিরাপত্তায় পথ দেখাচ্ছে ‘সেইভ আওয়ার উইমেন’ নাগেশ্বরীতে সার ডিলারশিপ নিয়ে বিরোধ, হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের মানববন্ধন নরসিংদীর শিবপুরে পূজা মন্ডপে অনুদান প্রদান করছেন মনজুর এলাহী এমপি জামালপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে জাল মার্কিন ডলারসহ গ্রেপ্তার ২ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক, পাবনা পবিস-১ ও শফিক গ্রুপের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ভবন নির্মাণে বিধি ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা: গণপূর্তমন্ত্রী ঠাকূরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই-নির্বাচন কমিশনার.।
আন্তর্জাতিক:
নারীর নিরাপত্তায় পথ দেখাচ্ছে ‘সেইভ আওয়ার উইমেন’ সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সংবাদ সম্মেলন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার দাবি এনসিপির নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা
     
             

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে নগরী: জনভোগান্তির অন্তরালে লুকানো সমস্যাগুলো কী

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মো: আইয়ুব মন্ডল কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার মোহাম্মদপুর, ঢাকা >>> গরমের তীব্রতার পর একটুখানি স্বস্তির বৃষ্টি যেন এখন নগরবাসীর জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত তলিয়ে যাচ্ছে নোংরা পানিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যান চলাচল, কর্মজীবী মানুষ আর স্কুলগামী শিশুরা পড়ছে চরম দুর্ভোগে। প্রশ্ন হলো, ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়ে এসেও কেন প্রতি বছর এই একই চিত্র দেখতে হচ্ছে? এই ভোগান্তির পেছনে আসলে কোন সমস্যাগুলো লুকিয়ে আছে?অব্যবস্থাপনার চক্রে আবদ্ধ নিকাশী ব্যবস্থা মূলত, শহরের নিকাশী ব্যবস্থার দুর্বলতাই এই সমস্যার মূল কারণ। ঢাকা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা শত বছর আগে তৈরি হলেও, বর্তমানে এর পরিধি এবং রক্ষণাবেক্ষণ আধুনিক নগরায়ণের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এবং যথাযথ তদারকির অভাবে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বৃষ্টি এলেই পানি উপচে পড়ছে রাস্তায়, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।শুধুমাত্র ড্রেন পরিষ্কার না করা বা ছোট ড্রেন থাকাই সমস্যা নয়। অনেক জায়গায় ড্রেনগুলোর সংযোগ সঠিকভাবে নেই, যার ফলে পানি প্রবাহিত হতে পারে না। উপরন্তু, শহরের অনেক খাল বা জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে অথবা দখলদারদের হাতে চলে গেছে, যা প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথগুলোকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। অথচ এই খালগুলোই একসময় শহরের বৃষ্টির পানি সরানোর প্রধান মাধ্যম ছিল।নাগরিকদের অসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের দায় এই জনভোগান্তির পেছনে শুধু কর্তৃপক্ষের অবহেলাই দায়ী নয়, নাগরিকদের অসচেতনতাও একটি বড় কারণ। আমরা প্রায়শই পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, বোতল এবং গৃহস্থালীর বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে থাকি। এই বর্জ্যগুলো ড্রেন এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আটকে দেয়, যা পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। সিটি কর্পোরেশন বারবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালালেও এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়াসার মতো সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। নিকাশী ব্যবস্থার দেখভালের দায়িত্ব একাধিক সংস্থার হাতে থাকায় প্রায়শই কাজের সমন্বয় ঘটে না। ফলে এক সংস্থা কাজ করলেও অন্য সংস্থার দুর্বলতার কারণে সেটির সুফল পাওয়া যায় না। বর্ষার আগে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হলেও, তা অনেক সময়ই পর্যাপ্ত হয় না বা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না।সমাধানের পথ কোথায়?এই দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। প্রথমত, শহরের সমস্ত ড্রেন, খাল এবং জলাশয়গুলো নিয়মিত ও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করার পাশাপাশি অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি এবং বিদ্যমানগুলোকে সংস্কার করতে হবে, যা যেন আধুনিক শহরের পানি নিষ্কাশন ক্ষমতাকে সমর্থন করতে পারে। তৃতীয়ত, নাগরিকদের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই সমস্যাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে দেখে কাজ করা। কেবলমাত্র বর্ষার আগে দায়সারা গোছের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, সারা বছর ধরে নিকাশী ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। তখনই কেবল আমরা বৃষ্টির দিনের স্বস্তিটা উপভোগ করতে পারবো, আর জলাবদ্ধতার দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পাবে আমাদের নগরী।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page