২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
জামালপুর সদর এখন মাদক ও কিশোর গ্যাং এর কবলে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের পথে। সাতকানিয়ায় বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা হাম-রুবেলা মুক্ত করতে বাঁশখালীতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু। পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিণ্ডদান করলেন টমাস চাকমা দুই যুগধরে সেবা থেকে বঞ্চিত পানছড়ি এলাকাবাসী। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন, ১৬ ফ্লাইটে যাবেন ৬ হাজার হাজি চট্টগ্রামে ৩১২ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ কুরুইন টাইগার ক্লাবের নতুন কমিটির শুভ উদ্বোধন, নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরহাদ হোসেন অ্যামোনিয়া নেই, উৎপাদনও নেই—বন্ধ ডিএপি প্ল্যান্ট ইছামতি নদীর ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ, রাঙ্গুনিয়ায় পরিদর্শন প্রতিনিধি দলের
আন্তর্জাতিক:
তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু সমুদ্রতলের ডিজিটাল ধমনী ও ইরান-মার্কিন সংঘাত: বিশ্ব অর্থনীতি কি ধসের মুখে
     
             

সাতকানিয়ায় প্রকল্পের কাজে ঘুষ টেন পার্সেন্ট

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> চট্টগ্রাম সাতকানিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী ও কার্যসহকারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট হারে সব ধরনের প্রকল্প থেকে নিয়মিত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য তিনি ‘টেন পার্সেন্ট’ (১০ শতাংশ হারে) ঘুষ নেন। ‘টেন পার্সেন্ট’ টাকা নগদ না দিলে প্রকল্পের চেক আটকে রাখেন তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা, অফিস সহকারী জাহেদ ও আলমগীরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় একাধিকবার অনিয়মের কথা উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও বন্ধ হয়নি টেন পার্সেন্ট আদায়।এমনকি অধিকাংশ জনপ্রতিনিধিরা তাদের এমন আচরণে বিক্ষুব্ধ হয়ে,তারা স্বৈরাচারের যাহা করছিল এখনো তা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।

উপজেলার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, পিআইও কার্যালয়ের আলমগীর ও জাহেদ,মাস্টার রুলস এর প্রতিটি ফাইলে প্রসেসিং করার নাম করে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন। প্রতিটি প্রকল্পের বিল আদায় করতে গেলে ১০% কমিশন আদায় করে অপারগতা স্বীকার করলে,
কার্য সহকারী আলমগীর হোসেন প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন অনিয়ম হইছে বলে প্রকল্পের ব্যয়কৃত বিল না দিয়ে দিনের পর দিন বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে। কিন্তু প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিল থেকে ১০% নগদ পরিশোধ করলে। প্রকল্পে অনিয়ম হলেও বিল চেকের মাধ্যমে দ্রুত পরিশোধ করে দেয়।এ বিষয়ে আনকৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় একাধিকবার বলা হলেও কোন পরিবর্তন হয় না।

এ ছাড়াও প্রকল্পের সভাপতি টাকা দিতে আপত্তি করলে আটকে রাখা হয় চেক। পিআইওর নাম করে অনিয়মের মাধ্যমে টাকা আদায় করে থাকেন তিনি। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার নানা রকম দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে
সংবাদ কর্মী আব্দুল্লাহ আল মারুফ জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বীকার করে বলেন আমি ৫-৬ টা ফাইলে টাকা নিয়েছি এমন কাজ আর করব না,প্রতিশ্রুতি দেন এরপরও তিনি পুরোদমে পুরনো নিয়মে কাজ চালিয়েই যাচ্ছেন।সরাসরি অফিসে গিয়ে এই টাকা কেন নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন
তারাই এ বিষয়েই ভালো বলতে পারবেন আমি এর চেয়ে আর বেশি কিছু আপনাকে বলতে চাই না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, অফিস সহকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নাম করে টেন পার্সেন্ট টাকা নগদ আদায় করে থাকেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেক আটকে রেখে টাকা পাওয়ার পর চেক হস্তান্তর করেন তারা আরও বলেন কোন প্রকল্পের চেক কমিশন ছাড়া দেওয়া হয় না সেটি অনেক আগে থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি মহিলা সদস্য বলেন,১% প্রকল্পের এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ,আমি কাজ সম্পন্ন করার পর ইউপি সচিব আমাকে টাকা দিচ্ছে ১ লাখ টাকা,আমি সেই টাকা গ্রহণ করি নাই।কারণ আমি খরচ করেছি দেড় লক্ষ টাকা,ইউপি সচিব আমাকে এক লক্ষ টাকা দিতে চাচ্ছে।আমি এই বিষয়ে প্রশাসনিক সমাধান চাই।

সাতকানিয়ায় কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৭,৮,৯, নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার পারভীন আক্তার বলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সহকারি জাহেদের মাধ্যমে টেন পার্সেন্ট টাকা আদায় করা হয়। আমি ১০% কমিশন দিই নাই বলে আমার প্রকল্পের বিল দিচ্ছে না এ ব্যাপারে আমি উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় একাধিকবার প্রতিবাদ করছি এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি,তারা আগের চেয়ে এখন আরো বেশি ঘুষ নিচ্ছে ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন,কেবলমাত্র আমি এসেছি,আমাকে একটু সময় দিন,এবিষয়ে কিছু জানিনা,অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,আমি দায়িত্ব নিয়েছি কিছুদিন হয়েছে অভিযোগের সত্যতা পেলেই,তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল্লাহ্ মজুমদার বলেন,১০ % ঘুষ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না,আমি যেহেতু এ বিষয়ে জানিনা তবে যারাই এ কাজে সম্পৃক্ত থাকুক না কেন,অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page