১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
রুহিয়া প্রেসক্লাবে দেলোয়ার হোসেন: নির্বাচিত হলে ডিজিটাল বোর্ডে প্রকাশ পাবে সরকারি বরাদ্দের হিসাব ৩০০ বছরের পুরোনো মণ্ডপে প্রথমবার একসঙ্গে ডিসি ও এসপি পীরগঞ্জে সিপিবি বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ। কিশোরগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত  ফরিদপুরের নগরকান্দায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত চাটখিলে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থকদের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান অ্যাডভোকেট আবু হানিফের বাঘায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে পৃথক ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ ২ খুন পটিয়ায় জগন্নাথ ধামের পূজা মন্ডপে মা দূর্গার মুখ ২০ফুট উপরে।
আন্তর্জাতিক:
সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সংবাদ সম্মেলন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার দাবি এনসিপির নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক
     
             

বাংলাদেশের সংকটকালীন কাণ্ডারি ও সংস্কারক ড. ফখরুদ্দীন আহমদ

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আনিছুর রহমান >>> বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (ওয়ান-ইলেভেন) পরবর্তী অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রের হাল ধরেছিলেন।একজন প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এবং দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা আজও ইতিহাসে সমাদৃত। ​২০০৭ সালের শুরুতে যখন দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তখন শান্ত ও ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব ড. ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পেশায় অর্থনীতিবিদ এই মানুষটি এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বিশ্বব্যাংকের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুভার সামলাতে তিনি আবেগ নয়, বরং মেধা ও আইনের শাসনকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার ছিল মূলত একটি সংস্কারমুখী সরকার। তাঁর দুই বছরের শাসনামলে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল ​।রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর প্রধান সাফল্য ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান। তৎকালীন সময়ে দেশের শীর্ষ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয় বাংলাদেশের স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত্তি তাঁর সময়েই স্থাপিত হয়। ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রণয়ন ছিল তাঁর সরকারের সবচেয়ে সফল কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবি ‘নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ’ তাঁর আমলেই ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। যা দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করে।সে সময় বিশ্বে অর্থনীতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।এখন ​জনমনে একটি প্রশ্ন প্রায়শই জাগে—কঠিন এক সময় পার করলেও কেন তাকে ‘ব্যর্থ’ বলা যায় না? এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয় তাঁর ব্যক্তিগত নির্লিপ্ততা। ক্ষমতার মোহ তাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। সেনাবাহিনীর সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্ধারিত সময়ে একটি উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন (২০০৮) আয়োজন করে শান্তিপূর্ণভাবে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।ব্যক্তিগত জীবনে অতি সাধারণ ন্যায়পরায়ন এই মানুষটি রাষ্ট্র পরিচালনায় কখনো পক্ষপাতিত্ব করেননি। শৃঙ্খলার সাথে রাষ্ট্র যন্ত্রকে পরিচালনা করার ফলে আমলাতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থায় এক ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যা জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।​ড. ফখরুদ্দীন আহমদ প্রমাণ করেছেন যে, সততা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেও পুনর্গঠন করা সম্ভব। বর্তমানে তিনি নিভৃত জীবন যাপন করলেও তাঁর সময়ে নেওয়া সংস্কারগুলো আজও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page