ভারতের সাবেক সফল অধিনায়ক ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী প্রাণনাশের হুমকিসহ একাধিক চিঠি পাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই তিনি এ ধরনের হুমকিসূচক চিঠি পাচ্ছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল তাঁর কার্যালয়ে আসা দুটি চিঠিতে সরাসরি সৌরভ গাঙ্গুলী ও তাঁর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, চিঠিতে তাঁদের স্বজন ও কাছের মানুষদেরও ক্ষতি করার ভয়ংকর বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতির নামে প্রায় ছয় মাস ধরে এমন চিঠি আসছিল, তবে শুরুতে বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে সৌরভ গাঙ্গুলী দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই কে বা কারা এমন হুমকিসূচক চিঠি পাঠাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে চিঠির ভাষা, পাঠানোর উৎস ও কুরিয়ার সার্ভিসের বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, চিঠি দুটি সম্ভবত উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়ার এক ব্যক্তি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। তদন্তকারীরা চিঠির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রেরকের পরিচয় এবং আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেরকের ব্যবহৃত সন্দেহভাজন সিম কার্ডের অবস্থান ও গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া পার্সেলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে একটি মোবাইল নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নম্বরটির বর্তমান অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ভারতের ২০০২ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতানো সাবেক এই অধিনায়কের ব্যবস্থাপকের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ এখন সব কটি চিঠির উৎস একই কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এই হুমকির নেপথ্যে আসল কারণ কী এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারে, তা নিয়ে কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা কাজ করছেন। সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো একজন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। তদন্তের স্বার্থে প্রেরকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, তবে খুব দ্রুতই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য