আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক।।পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে আবারও পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আসন্ন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে মূলধারার রাজনীতিকদের পর্দার অন্তরালের যোগাযোগ এখন পাহাড়ের প্রধান আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে এক বিএনপি নেতার কথিত বৈঠককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, গত ১৮ অক্টোবর রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাশৈপ্রু। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা, মিল্টন ত্রিপুরা ও কেসাপ্রুসহ কয়েকজন অনুসারী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বান্দরবান জেলা পরিষদের আগামী সিলেকশন প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান পদটি নিশ্চিত করতে সন্তু লারমার সমর্থন ও ‘আশীর্বাদ’ পেতেই এই বৈঠকের আয়োজন। বৈঠকে বান্দরবানের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
মূলধারার একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে আঞ্চলিক সশস্ত্র রাজনীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সংগঠনের এমন গোপন যোগাযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, জেএসএস-এর বিরুদ্ধে অতীতে নানা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের সমঝোতা পাহাড়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
অন্যান্য আঞ্চলিক সংগঠনগুলোও এই গোপন তৎপরতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে। অগণতান্ত্রিক উপায়ে পদ দখলের চেষ্টা শান্তিচুক্তির মূল চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করবে।বিশেষ মহলের মদদে নেতৃত্ব নির্বাচন পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের অস্ত্রের রাজনীতি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেতে হলে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন অপরিহার্য। লবিং বা গোপন আঁতাতের মাধ্যমে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে তা আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট ব্যক্তি নয়, বরং যারা শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে নিবেদিত, তারাই জেলা পরিষদের নেতৃত্বে আসুক—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ পাহাড়ী ও বাঙালিদের।


মন্তব্য