মো: সোহেল রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধ >>> পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁকে মন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের অংশ হিসেবে সাচিং প্রু জেরীসহ চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের রাজপরিবারের সন্তান। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান-৩০০ আসন থেকে জয়ী হন। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পান।রাজনৈতিক জীবনে সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান সদর উপজেলা এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, দুর্গম এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাঁর ভূমিকা থাকবে।বিশেষ করে বান্দরবানের দীর্ঘদিনের পানি সংকট, দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে সাচিং প্রু জেরীও বান্দরবানের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের কথা তুলে ধরেছিলেন।তাঁর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে বান্দরবানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও জনজীবনের নানা সমস্যার কার্যকর সমাধানে নতুন মন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা বেড়েছে।সাচিং প্রু জেরীর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বান্দরবান জেলা বিএনপি থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী দায়িত্ব পেলেন—যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মন্তব্য