ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে বাংলাদেশ তাদের ব্যাটিং দৃঢ়তা বজায় রেখেছে। দিনের শুরুতে হাসান মাহমুদের উইকেট হারালেও মেহেদি হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলীয় স্কোর ৪১৭ রান স্পর্শ করেছে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মিরাজ লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার সঙ্গে ১২ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন তাসকিন আহমেদ। এই জুটিতে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১৯ রানের লিড নিয়ে বিরতিতে গেছে। এর আগে ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪২৭ রান ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ, যা টপকে যাওয়ার পথে টাইগাররা।
সকালের সেশনে হাসান মাহমুদ ৯২ বল মোকাবেলা করে ১৪ রান করে আউট হন। হাসান ও মিরাজ নবম উইকেট জুটিতে ৪৬ রান যোগ করেন। এরপর তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১৮ রানের একটি ছোট জুটি গড়েন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেট জুটিতে ৯২ বলে ৪৫ রান যোগ করে লাঞ্চে যান তিনি। ১১৭ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা মিরাজ প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্ম এই টেস্টেও ধরে রেখেছেন। বাউন্সার ও শরীর লক্ষ্য করে করা অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ সামলে তিনি দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
ব্যাটসম্যানদের এই লড়াইয়ের মাঝে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা হতাশায় ভুগেছে। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের একটি সহজ ক্যাচ বাউন্ডারি লাইনে ফেলে দেন স্টিভেন স্মিথ, যা বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দেয়। লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের নিয়ে মিরাজের পরিকল্পিত ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচ থেকে ফেরার পথ ক্রমশ কঠিন করে তুলছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ১৯৮ রানে, যেখানে হাসান মাহমুদ ৬টি উইকেট শিকার করেছিলেন।
তৃতীয় দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৪১৭ রান। দলের হয়ে তানজিদ তামিম ১০১, শান্ত ৮৪, মুমিনুল ৪৯ ও মুশফিক ৩৬ রান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে হ্যাজেলউড ৪টি উইকেট নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দাপুটে ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪২৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।
অপরাজিত ১২ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাসকিন আহমেদ।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯৮ (স্মিথ ৭১, হাসান মাহমুদ ৬/৫৫)।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো চারশ পেরুনো রান করল বাংলাদেশ।
ডারউইনে এখন সেই রানকে টপকে যাওয়ার সম্ভাবনার খুব কাছে দল।
তবে একপাশে আঁকড়ে ধরে মেহেদি মিরাজ উইকেট অক্ষত এবং সেই সঙ্গে রানের চাকাও সচল রাখেন।
শেষেরদিকের এই জুটিগুলেতে বাংলাদেশের রানের ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়াকে আরো হতাশ করে।
এই পর্যায়ে অবশ্য বাংলাদেশ ভাগ্যেরও সহায়তা পায়।
এই ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং সময় দুটোই ক্রমশ ফিকে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জন্য।
সূত্র: Daily Amar Desh


মন্তব্য