নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের চন্দনাইশে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৮ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের উত্তর হাশিমপুর ছৈয়দাবাদ এলাকার মোহাম্মদ নাছিরের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬) ও একই এলাকার মো. ইউনুচের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম (২৭)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরেক আসামি মো. জাহেদ (২৯) পলাতক রয়েছেন।মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী ও তার ছোট বোন নানির বাড়িতে যাওয়ার পথে চন্দনাইশ পৌরসভার গাছবাড়িয়া দুর্লভপাড়া হযরত শাহ ছৈয়দ জালাল উদ্দিন আউলিয়া (রা.) মাজারের সামনের রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা জোরপূর্বক তাদের একটি সিএনজিতে তুলে নেয়। যাওয়ার পথে ছোট বোনটি কৌশলে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়। এরপর আসামিরা অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এলাহাবাদ অংশপাড়ায় একটি পোল্ট্রি ফার্মের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে চন্দনাইশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় ৫ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করে।এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ওসি এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তৎপর হয়ে উঠি। অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার সাথে জড়িত সিএনজিটি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ২২ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মন্তব্য