১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
আন্তর্জাতিক:
লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক
     
             

কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার হানা নৌযান চলাচলে স্থবিরতা

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার অস্বাভাবিক চাপের কারণে নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাপ্তাই লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা জেটিঘাটে এসে জমা হওয়ায় লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত বোটগুলো সহজে ঘাটে ভিড়তে বা ঘাট থেকে বের হতে পারছে না। একবার পরিষ্কার করার পরও স্রোতের টানে নতুন করে কচুরিপানা এসে পুরো ঘাট এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলছে।সরেজমিনে কাপ্তাই জেটিঘাটে অবস্থিত অভ্যন্তরীণ নৌ লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে কচুরিপানার এক বিশাল স্তূপ জমে রয়েছে। এর ফলে ঘাট থেকে দূরপাল্লার নৌযানগুলোর যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং ঘাটে অবস্থানরত চালক ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।লঞ্চঘাটের পরিচালক শীতল কুমার দাশ এই পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন,কাপ্তাই জেটিঘাটে বর্তমানে নৌযান চলাচলের একমাত্র এবং প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই কচুরিপানা। এর তীব্র চাপের কারণে কোনো নৌযান সহজে ঘাটে ভিড়তে পারছে না, আবার ঘাট থেকে বের হতেও চালকদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।স্থানীয় বোট চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এই সমস্যা আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। ইঞ্জিন বোট চালক শাহাদাত হোসেন জানান, জেটিঘাট বা এর আশেপাশে সাধারণত কচুরিপানার জন্ম হয় না। কাপ্তাই লেকের দূরবর্তী অঞ্চল—বিশেষ করে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল এবং নানিয়ারচর উপজেলা থেকে কচুরিপানাগুলো স্রোতের টানে ভেসে এসে এই কাপ্তাই জেটিঘাটে জমা হয়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন জেনারেটরের মাধ্যমে যে পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে, সেই পানির তীব্র স্রোতের কারণেই লেকের দূর-দূরান্ত থেকে কচুরিপানাগুলো ভেসে এসে জেটিঘাটে আটকে যাচ্ছে।এই বিষয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যখন জেনারেটর চালু করা হয়, তখন কর্ণফুলী নদীতে প্রচুর পরিমাণে পানি নির্গত হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে জেটিঘাটের দিকে সবসময় পানির একটি শক্তিশালী টান বা চাপ বজায় থাকে। ফলে উজানের সব কচুরিপানা স্রোতের সাথে ভেসে এসে এখানেই জমা হতে থাকে।তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত বিরতিতে এই কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। তবে উজান থেকে পানির স্রোতের সাথে অনবরত কচুরিপানা আসতে থাকায় এটিকে সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থাকে মেনে নেওয়া ছাড়া তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌযান চালকদের দাবি, কাপ্তাই লেকের ওপর নির্ভরশীল যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কচুরিপানা অপসারণে আরও আধুনিক ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page