১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
সারাদেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া এস এম. জহিরুল ইসলামন সখিপুরে মায়েদের নিয়ে ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক কর্মশালা পীরগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উদযাপন বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরে ৪০ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ভক্ত সেবা সংঘের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মোহনপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স পটিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত এক ব্যাক্তি গুরতর আহত দুই মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের চাকরি, বেতন তোলার অভিযোগ রুহিয়া প্রেসক্লাবে দেলোয়ার হোসেন: নির্বাচিত হলে ডিজিটাল বোর্ডে প্রকাশ পাবে সরকারি বরাদ্দের হিসাব ৩০০ বছরের পুরোনো মণ্ডপে প্রথমবার একসঙ্গে ডিসি ও এসপি
আন্তর্জাতিক:
সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সংবাদ সম্মেলন। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার দাবি এনসিপির নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক
     
             

কর্ণফুলী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলন

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

হাসান আকবর >>> কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়াভাবে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বেচাকেনা। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক বালুমহাল। ড্রেজার–ভলগেট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদী ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, নদীর তীরবর্তী সড়ক, বসতি ও কৃষিজমি। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান ও জরিমানা করলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থামছে না। কর্ণফুলীর কালুরঘাট, চৌধুরীহাট, ফখিরাখালী ঘাট, চৌধুরী খালের মুখ, খরণদ্বীপ–জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকায় রয়েছে অন্তত ৩০–৩৫টি বিক্রয়কেন্দ্র। প্রতিদিন এখান থেকে শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টরে বালু পাচার হচ্ছে। শুধু নদী নয়, পাহাড়ি ছড়াগুলোও রেহাই পাচ্ছে না। জ্যৈষ্ঠপুরা ভাণ্ডালজুড়ি খাল ও বিভিন্ন ছড়া থেকে ট্রাক্টরে বালু তুলে বিক্রি করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা সমঝোতার মাধ্যমে এ অবৈধ ব্যবসায় জড়িত। একসময় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন এককভাবে বালু ব্যবসা চালালেও এখন ভাগাভাগি ভিত্তিতে চলছে এ বাণিজ্য। কোথাও ৬০–৪০ শতাংশে, কোথাও সমান অংশীদারিত্বে বালু তোলার টাকা ভাগ হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে না।নগরীর বাকলিয়া–বলিরহাট থেকে ফিশারিঘাট পর্যন্ত এলাকার চিত্রও একই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব পয়েন্টে দিনে–রাতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু তোলা হচ্ছে। প্রতি রাতে অন্তত ২০০ গাড়ি বালু ও মাটি পাচার হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) শত কোটি টাকার প্রকল্প চাক্তাই–কালুরঘাট সড়ক–কাম বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। নদীর তীর ঘেঁষে যেভাবে বালু কাটা হচ্ছে, তাতে বাঁধে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারছে না। বরং যারা ভিন্নমত প্রকাশ করছে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সম্প্রতি বাকলিয়ার বলিরহাট এলাকায় স্থানীয়রা বালু তোলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলেও তাদের দমাতে পারেনি।বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর–খরণদ্বীপ, কদুরখীল, চরণদ্বীপ এবং নগরীর কালুরঘাট এলাকায় নদীর দুই পাড়ে দেখা যায় বালুর রাজত্ব। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাজনৈতিক নেতারা সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন এসব এলাকায় ২০টিরও বেশি ড্রেজার দিয়ে ৬০–৮০ হাজার ঘনফুট বালু তোলা হয়। প্রতি ঘনফুটে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এক টাকা হারে। শুধু চর খাজনার নামে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকা উঠছে, মাসে যা দাঁড়ায় ৪৫ লাখ টাকা।প্রশাসনের দাবি, কর্ণফুলী নদীর বোয়ালখালী অংশে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তালিকাতেও এ উপজেলায় কোনো অনুমোদিত বালুমহালের নাম নেই। অথচ দুই–তিন দশক ধরে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসা। সরকার এ খাত থেকে এক টাকা রাজস্বও পাচ্ছে না। বরং নদী, প্রকল্প ও পরিবেশ পড়ছে ভয়াবহ সংকটে।একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ বালু বাণিজ্যের কারণে কর্ণফুলী নদীর তীর ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পও পড়ছে ঝুঁকিতে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কঠোরভাবে দমানো না গেলে পরিবেশ এবং প্রকৃতির বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হবে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page