মোঃ দিদারুল ইসলাম,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে দলটি আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।১৯ জানুয়ারী(সোমবার) বিকেলে নগরের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান এনসিপি নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।সংবাদ সম্মেলনে মহানগরের আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, “মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, আমরা তাকে সম্মান করি। তিনি আদালতের রায়ে মেয়র হয়েছেন। কিন্তু আমরা চাই, তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে মেয়র হোন।”তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারিতে মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। “এই সময়ের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে”—বলেন তিনি।এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, মেয়র পদে বহাল থেকে ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশের সমন্বয় করছেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ানের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ এরফানুল হক বলেন, মেয়র পদে বহাল থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালালে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয় না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তার অবিলম্বে পদত্যাগ প্রয়োজন।সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক গণবিজ্ঞপ্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতারা। তারা বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ তালিকা প্রকাশ করে তাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রহস্যজনক। তালিকায় জুলাই আন্দোলনের হত্যাকারী, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনজীবী হত্যা মামলার আসামিদের নাম থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে শুধু এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এনসিপি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ যদি জানেই তারা সন্ত্রাসী, তবে তাদের গ্রেপ্তার না করে কেন শুধু সতর্ক করা হচ্ছে? তারা চট্টগ্রামে থাকতে পারবে না মানে কি অন্য জেলায় থাকতে পারবে?” এ ধরনের দায়সারা বিজ্ঞপ্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা জোবাইর হোছাইন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন।











মন্তব্য