আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে লোগো উন্মোচন ও ড্র সম্পন্ন হয়েছে। নেপালকে বাইরে রেখে মোট ছয়টি দলকে নিয়ে গ্রুপিং করা হয়েছে। স্বাগতিক বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানকে নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘এ’ গ্রুপ। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নেপাল যদি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফুটবলে ফিরতে পারে, তবে তারা বাংলাদেশের গ্রুপেই খেলবে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। নেপালের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পরই কর্তৃপক্ষ টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করবে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দামামা প্রায় তিন মাস আগেই বেজে উঠেছে। দেওয়ান হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো বিশ্বমানের প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশ দলের শক্তিমত্তা ও পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন এসেছে। গত দেড় বছরে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে দলটি বেশ সম্ভাবনাময় ফুটবল উপহার দিয়েছে। বিশেষ করে ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর সাফল্য এবং ভারতের মাটিতে গোলশূন্য ড্র করার রেকর্ড বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া হংকংয়ের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার মতো অর্জনও রয়েছে তাদের। যে ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ হেরেছে, সেখানেও ব্যবধান ছিল সামান্য এবং জয়ের ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।
জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার শেখ আসলাম মনে করেন, এবারই সাফ জয়ের মোক্ষম সময়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাফে সবসময় ভালো খেলে, তবে এবার সেরা সুযোগ সামনে। প্রবাসী ফুটবলারদের আগমনে দল এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে সাফে ভালো করতে হলে আক্রমণভাগে আরও দক্ষতা দেখাতে হবে। মিডফিল্ড থেকে বলের জোগান ঠিক থাকলেও প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাবে ফিনিশিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ বর্তমান দলটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হামজা-শমিতদের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটি এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। সাফে নিজেদের সেরা প্রমাণ করার সুযোগ তাদের সামনে। ২০০৩ সালে একবারই বাংলাদেশ শিরোপা জিতেছিল, এবার সেই শিরোপা পুনরুদ্ধারের হাতছানি রয়েছে। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের হারিয়েছে। বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় শিরোপা জয় অসম্ভব কিছু নয়।’
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এটাই সেরা সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এশিয়ান কাপে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু সাফে আমাদের খেলতে হবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা নিয়ে। এজন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ প্রস্তুতি প্রয়োজন। সাফ টুর্নামেন্ট সহজ নয়, তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো আবহ তৈরি করেই মাঠে নামতে হবে।’
হংকংয়ের মাঠেও ১-১ গোলে ড্রয়ের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের স্ট্রাইকিংয়ে ঝামেলা আছে।
মামুনুল বলেন, ‘আমরা চিন্তা করতে হবে, আমরা কোন টুর্নামেন্ট কীভাবে খেলব।
আর যে কটি ম্যাচ হারল বাংলাদেশ, সেখানে বড় কোনো ব্যবধান ছিল না।
সব মিলে প্রবাসী ফুটবলারে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।
বংশোদ্ভূত ফুটবলার যারা দলে এসেছে, তাদের নিয়ে বাংলাদেশ খুবই ভালো খেলছে।
কিন্তু ফিনিশিংটা ভালো না হওয়ায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে।
তাদের ঘিরে যে এত আলোচনা চারদিকে, সাফে সেটির প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ তাদের।
তিনি বলেন, ‘যে ধরনের ফুটবল খেলছে এখন বাংলাদেশ, তাতে শিরোপা জয় আশা করাই যায়।
আশা করি, সবাইকে টপকে বাংলাদেশ সাফ শিরোপা জিততে পারে।’
এজন্য মানসিক, শারীরিকভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।
সূত্র: Daily Amar Desh – Sports


মন্তব্য