আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। শত ব্যস্ততার মাঝেও থেমে নেই সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মানবিক কার্যক্রম।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত কাজে দিন–রাত প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে অসহায় মানুষের দুঃখগাথা শুনছেন তিনি। প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে আসা মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সহায়তা করছেন জেলা প্রশাসক।সরকারি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাধ্যমতো সহায়তা দিয়ে তিনি নিয়মিত অসহায় ও দরিদ্র নাগরিকদের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার এই অভিভাবক কাউকেই খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছেন না। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. বেলায়েত হোসেন মাস্টার্স শ্রেণিতে ভর্তির টাকা সংগ্রহের আশায় সরাসরি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের কার্যালয়ে উপস্থিত হন।বেলায়েত ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার হাটঘাটা গ্রামের হেদায়েত মোল্লা ও বিলকিস বেগম দম্পতির সন্তান। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন। বেলায়েতের মা অসুস্থ এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সংসার চালানো ও স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করাই যেখানে কঠিন, সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা ছিল প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হন তিনি।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বেলায়েতের দুর্দশা ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন। পরে মাস্টার্স শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও তার উচ্চশিক্ষা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে টেলিফোনে বলেন, “প্রশাসনিক কাজে আমি যত ব্যস্তই থাকি, চেষ্টা করি যেন কোনো সাহায্যপ্রার্থী নাগরিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে হতাশ হয়ে ফিরে না যান। জেলার অভিভাবক হিসেবে যে কোনো নাগরিকের পাশে থাকা আমার পবিত্র দায়িত্ব।”











মন্তব্য