বিশ্বের সবচেয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্যের বুকযোগ্য এয়ারবাস এ৩৫০ (Airbus A350) ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। কাতারের দোহা থেকে বাহরাইনের রাজধানী মানামা পর্যন্ত মাত্র ১৪৮ কিলোমিটার বা প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বের এই রুটে বিশেষ এই উড়োজাহাজটি যাত্রী পরিবহন করবে। আগামী ২০২৬ সালের ১২ ও ১৩ আগস্ট দুই দিন এয়ারলাইনটি এই বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সাধারণত দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত এই ওয়াইডবডি উড়োজাহাজটি এত অল্প দূরত্বে পরিচালনার বিষয়টি বিমান চলাচলপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এই ফ্লাইটটি পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে পরিচালিত হবে। সাধারণত এই রুটে কাতার এয়ারওয়েজ সরু দেহের এয়ারবাস এ৩২০সিইও (A320ceo) উড়োজাহাজ ব্যবহার করে থাকে। তবে সাময়িক সূচি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ১২ ও ১৩ আগস্ট ছোট উড়োজাহাজের পরিবর্তে দীর্ঘপাল্লার এ৩৫০ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই দিনে নিয়মিত তিনটি ফ্লাইটের পরিবর্তে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
এয়ারবাস এ৩৫০ মূলত ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ের দীর্ঘ যাত্রার জন্য নকশা করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের বহরে থাকা এ৩৫০-৯০০ সংস্করণের এই উড়োজাহাজটিতে বিজনেস ও ইকোনমি ক্লাস মিলিয়ে মোট ২৮৩ জন যাত্রী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশাল আকারের এই উড়োজাহাজকে মাত্র ১৪৮ কিলোমিটারের স্বল্প দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা একটি বিরল ঘটনা। এর ফলে যাত্রীরা খুব অল্প সময়ের ফ্লাইটেও দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজের আরামদায়ক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সময়সূচির এই পরিবর্তনটি স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কাতার এয়ারওয়েজের নিয়মিত পরিকল্পনায় দোহা-বাহরাইন রুটে এ৩২০সিইও উড়োজাহাজ ব্যবহারের বিষয়টিই বহাল রয়েছে। কেবল সাময়িক সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজনে এই দুই দিনের জন্য এ৩৫০ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কাতার এয়ারওয়েজ একদিকে যেমন যাত্রীদের ভিন্নধর্মী উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে, তেমনি বিমান চলাচলের ইতিহাসে স্বল্পতম দূরত্বের এ৩৫০ ফ্লাইট হিসেবে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
সূত্র: গালফ বাংলা


মন্তব্য