বিশেষ প্রতিনিধি >>> টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের সদস্য সচিব (৫ম গ্রেড) মেজর মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে অসকস-বাংলাদেশ, (অবসরপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর) সদস্যদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বকশীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এ সভায় ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।মতবিনিময় সভার শুরুতে সচিব মেজর মাহফুজুর রহমান (DASB) এসজিপি ৮ম গ্রেড স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিস্তারিত ও সুস্পষ্টভাবে উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন, উপস্থিত বক্তাদের সমস্যাবলী নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং ধৈর্য সহকারে সবার বক্তব্য শ্রবণ করেন।সভায় অংশগ্রহণকারী অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা বলেন, যারা নিজেদের যৌবন, পরিবার ও ব্যক্তিগত স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন—মুক্তিযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারাই ছিলেন রাষ্ট্রের ঢাল। অথচ পরিতাপের বিষয় হলো, অবসর গ্রহণের পর সেই গর্বিত সৈনিকদের অনেকেই আজ চিকিৎসা সুবিধার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন এবং সামাজিকভাবে অবহেলিত হচ্ছে।বক্তারা আরও বলেন, একই পদে, একই দায়িত্ব ও একই ঝুঁকিতে চাকরি করেও বর্তমানে পেনশনে বৈষম্য বিদ্যমান—যা শুধু আর্থিক নয়, বরং একজন সৈনিকের সম্মান ও আত্মমর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।এ প্রেক্ষাপটে ডিজি সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের মাধ্যমে কয়েকটি ন্যায্য ও মানবিক দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—একই পদে কর্মরত অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বৈষম্য অবিলম্বে বন্ধ করা, অবসরপ্রাপ্ত সদস্য, তাঁদের স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য আজীবন পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, সেনাপল্লী ও বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বল্পমূল্যে আবাসন প্রকল্প চালু করা, বাস্তবসম্মত রেশন ভাতা চালু করা এবং মৃত্যুর পর কোনো সময়সীমা ছাড়াই পূর্ণ সামরিক মর্যাদা ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের অধিকার রক্ষায় একটি স্বতন্ত্র ভেটেরান্স মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়।সভায় অসকস–বাংলাদেশ (অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কল্যাণ সোসাইটি)-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবু শামা অর্ডন্যান্স বলেন, “আমাদের দাবিগুলো ন্যায্য ও মানবিক। সম্মানিত সচিব মহোদয়ের মাধ্যমে এসব দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। একজন সৈনিক কখনো বেশি কিছু চায় না—চায় শুধু ন্যায্যতা, সম্মান ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি।”এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জেসিও-এনসিও সহ ৮০ প্লাস সর্বস্তরের অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি জহুরুল হক এবং সভাটি পরিচালনা করেন অসকস-বাংলাদেশ বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, এল এস আশরাফ।











মন্তব্য