নিজস্ব প্রতিবেদক ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বিদায়কে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল তাঁর চরিত্র হনন ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রীড়া সংস্থার একটি মনোনয়ন বাতিল এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যারা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিংবা প্রশাসনের কাছে অযৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের একটি অংশ এখন সক্রিয়। সম্প্রতি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক পদে বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিচয়ের এক ব্যক্তির মনোনয়ন উদ্যোগ যাচাই-বাছাই শেষে ইউএনও বাতিল করায় এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু কথিত অনলাইন মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদায়ী ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অপপ্রচার জোরালোভাবে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি। ক্রীড়া সংস্থাসহ যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিধিমালা এবং উপজেলাবাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছে। স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটায় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এসবের কোনো আইনি বা বাস্তব ভিত্তি নেই।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর মতামত না নেওয়ায় সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের একটি অংশ জানায়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। কিন্তু একপক্ষের বক্তব্য নিয়ে যাচাইহীন তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো সাংবাদিকতার নীতিবহির্ভূত।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে গুজব রটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


মন্তব্য