ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দল বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। প্রথম দিন মেহেদি হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে যে স্বস্তি ছিল, তা দ্বিতীয় দিন শেষে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশের চেয়ে ৯২ রানের লিড নিয়েছে। দিনের শেষভাগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডার আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দিনশেষে সফরকারীরা ২ উইকেট হারিয়ে ১৯ রান তুলেছে, অর্থাৎ ইনিংস পরাজয় এড়াতে তাদের এখনো ৭৩ রান প্রয়োজন।
আগের দিনের ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন হাসান মাহমুদ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই জশ ফিলিপিকে বোল্ড করে তিনি শুভসূচনা করেন। কাউন্টি ক্রিকেট খেলে সদ্য দেশে ফেরা এই পেসার ৪২ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন। তাসকিন আহমেদও ভালো সঙ্গ দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন। তবে সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও মুশফিক হাসান বেশ খরুচে ছিলেন। মিরাজ বোলিংয়েও নিজের দক্ষতা দেখিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩৫৫ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
ম্যাচের শুরুতে ৫ উইকেটে ১৩৯ রানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া একাদশ। কার্টিস প্যাটারসন ও জ্যাক ক্লেটনের ৭৩ রানের জুটি ভাঙার পর মনে হয়েছিল বাংলাদেশ ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেবে। প্যাটারসন ৫৩ রান করে হাসানের বলে বোল্ড হন এবং ক্লেটন ৪৮ রান করে ইবাদতের শিকার হন। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন টিগ উয়াইলি ও জেইক ডোরান। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ১৫৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় হতাশ করেন। ডোরান ৭৬ রানে ফেরার পর উয়াইলি ১৭৭ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত খালেদের বলে তিনি আউট হন।
বাংলাদেশ দলের জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল তাইজুল ইসলামের আঙুলের চোট। ব্যাটিংয়ের সময় পাওয়া এই চোটের কারণে সতর্কতা হিসেবে তাকে বোলিং করানো হয়নি। তার পরিবর্তে মুশফিক হাসান বোলিংয়ের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। নাহিদ রানার অনুপস্থিতিতে এমনিতেই পেস আক্রমণ নিয়ে চাপে থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য তাইজুলের এই সাময়িক অনুপস্থিতি বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে লিড শোধ করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারেই সাদমান ইসলাম ৬ রান করে আউট হন। দিনের শেষভাগে মুমিনুল হকও ৬ রান করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা তানজিদ হাসান ৭ রানে অপরাজিত আছেন। ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য এই প্রস্তুতি ম্যাচের শেষদিনের ব্যাটিং বড় পরীক্ষা। প্রথম ইনিংসে মিরাজের সেঞ্চুরি ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ৩৭ রানই ছিল টপ ও মিডলঅর্ডারের সেরা সংগ্রহ। সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে ব্যাটসম্যানদের রানে ফেরার তাগিদ এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করেছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম ইনিংসে ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৯ রান। থমসন ১০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।
কাউন্টি ক্রিকেট খেলে সদ্য দেশে ফেরা এই পেসার শেষ পর্যন্ত থামেন ৪২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে।
টম রজার্সের চোটে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পাওয়া ক্লেটন ৫৮ বলে করেন আগ্রাসী ৪৮ রান, তাকে ফেরান ইবাদত।
ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৫৭ রান, ৩৫ ওভারের বেশি সময় ধরে হতাশ করেন বাংলাদেশের বোলারদের।
ফিলিপির বিদায়ের পরও বাংলাদেশের জন্য দিনের শুরুটা মন্দ ছিল না।
তবে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে সাড়ে তিনশ পার করান উয়াইলি, ১৭৭ বলে খেলেন ১৩০ রানের ইনিংস।
২২ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, সেঞ্চুরি এটাই প্রথম, গড় মাত্র ২০.৭৯।
গত মৌসুম শেষে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া থেকে বাদ পড়ে তাসমানিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা উয়াইলির জন্য তাই এই ইনিংসটা বড় একটা জবাব।
শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে সিএ একাদশের ইনিংসের ইতি টানেন খালেদ।
১৩ জনের দলে না থেকেও তার বদলি হিসেবে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে যান মুশফিক হাসান।
প্রথম ইনিংসে ৩১ রান করা এই ওপেনার পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন ৬ রানে।
এরপর দিনের শেষ বলের কাছাকাছি সময়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুমিনুল হকও, তার সংগ্রহও সেই ৬ রান।
প্রথম ইনিংসে ৫৮ বলে ১৬ রান করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগটা দ্বিতীয় ইনিংসেও কাজে লাগাতে পারলেন না।
মুমিনুলের বিদায় দিয়েই শেষ হয় দিনের খেলা।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম ইনিংস: ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ (আগের দিন ৫১/২) (কনস্টাস ১, কেলাওয়ে ০, প্যাটারসন ৫৩, ফিলিপি ২৪, ক্লেটন ৪৮, উয়াইলি ১৩০, ডোরান ৭৬, ওয়াদিয়া ০, জ্যাকবস ১০, রকিচ্চলি ৫, ক্রোন ০*; তাসকিন ১৫-৪-৫৬-২, হাসান ১৯-৫-৪২-৪, খালেদ ১২.২-০-৫২-১, ইবাদত ১৩-১-৬৬-১, মিরাজ ২০-৩-৭৭-২, মুশফিক ৪-০-৩৮-০, মুমিনুল ৪-০-২০-০)।
সূত্র: Daily Amar Desh


মন্তব্য