পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে এসব শহরের বাইরে কাজ করতে হলে তাদের আগাম সরকারি অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশটিতে কর্মরত সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। গত সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের একটি বার্তা গ্রুপে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এই নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাক তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’ অনুযায়ী, পাকিস্তানে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সব সাংবাদিককে সরকারের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এই নিয়ম ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। এছাড়া রাজধানী ও প্রধান দুই শহর লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে সরকারের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি নিতে হবে। তবে এই নির্দেশনা কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং শর্ত না মানলে সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সম্প্রতি পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচন ও বিক্ষোভের সময় বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরপরই নতুন এই নীতিমালা সামনে এল। যদিও কাশ্মীরের পরিস্থিতির সঙ্গে এই নির্দেশনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, প্রায় ২৫ কোটি মানুষের দেশটিতে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও পরিবেশের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রাজধানী ও বড় শহরগুলোর বাইরে ঘটে থাকে।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’ সাংবাদিকদের কাজ সহজ করার পরিবর্তে সংবাদ সংগ্রহের ওপর আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রকাশের পথ সংকুচিত হবে। এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানেও বড় শহরগুলোর বাইরে কাজ করতে বিদেশি সাংবাদিকদের এনওসি নিতে হয়, তবে এই অনুমতি পেতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এর ফলে জরুরি বা দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলো সময়মতো কাভার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নতুন এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সীমিত হয়ে পড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যাবে। এদিকে, নতুন এই নির্দেশনা নিয়ে মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য