৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস ঘিরে বিতর্ক, শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে স্বস্তি রেফারি কাগজে চুক্তির সুখবর, মাঠে মোনাকোর কাছে পিএসজির হার উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‌্যাবের অভিযান: বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ১ আরসা সদস্য গ্রেফতার এবার কালবেলার সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন এসিল্যান্ড সাতকানিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম আগামীকাল লালদিঘী ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হবে : মুহাম্মদ শাহজাহান চাটখিলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সুনামগঞ্জে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
আন্তর্জাতিক:
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক জাতিসংঘের ভোকেশনাল কেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর তল্লাশি, অগ্নিনির্বাপণে বাধা বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ ইসলামাবাদের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণে ১৫ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু
     
             

কিশোরগঞ্জে বর্ষায় মনোহর সোভা ছড়াচ্ছে চালতা ফুল

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আনোয়ার হোসেন-কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ>>>

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে রিমঝিম বর্ষায় মনোহর সোভা ও সৌরভ ছড়াচ্ছে চালতা ফুল।সবুজের মূর্ছনায় পাপড়ির শুভ্রতা,হলুদ পরাগ,তারকাবৃত্তির গর্ভদন্ড সব মিলে চালতা ফুলের মোহনীয় রুপ প্রকৃতিজুড়ে ঝিলিক তুলেছে। এতে মুগ্ধ হয়ে পড়েছে সৌন্দর্য পিপাসুরাও।কদমের পড়ে বর্ষাকে চেনা যায় চালতা ফুলে।তবে অবহেলায় বেড়ে ওঠা গাছের রোমাঞ্চকর ফুলের দিকে ক’জনই বা তাকায়?প্রকৃতির আলাদা গড়ন আর কারুকাজ খচিত এ ফুলের খোঁজ নিয়ে দেখেন,আপনি তো দুরে থাক,পাষান মানুষেরও হৃদয়-মন হরণ করে নেয়!ক্ষণিকের জন্য হলেও বুঁধ হয়ে যাবেন।ভোতা অনুভূতি গুলো চাঙ্গা হয়ে উঠবে নিমিষেই।তাইতো এ ফুলে মুগ্ধ হয়ে প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ সেই দিন এই মাঠ কবিতায় লিখেছেন,আমি চ’লে যাব ব’লে/চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে…। না,কবি বেঁচে নেই আর।তবে শিশিরের জলে ভিজে চালতা ফুলের গন্ধের ঢেউ আজও প্রবাহিত যা অনন্তকালব্যাপী।একই রকম মুগ্ধতা নিয়ে বিষ্ণু দে লিখেছিলেন,আকাশ নীলের তারাখচা পথে বৃষ্টি পড়ে/চালতা ফুলে ফলের বাগান মদির করে…। না, শুধু কবিদের নয়।সৌন্দর্য পিপাসুদের এ ফুল যুগ যুগ ধরে বিমোহিত করে রেখেছে।এ মুগ্ধতা করা চালতা ফুল একটা সময় গ্রামীণ জনপদে হরহামেশাই চোখে পড়ত।এখন কমতে শুরু করেছে।এরই মাঝে রোববার বাহাগিলী ইউপির উত্তর দুরাকুটি হাড়িবেচা পাড়ার গ্রামীণ সড়কের ধারে দাড়িয়ে থাকা গাছে চালতা ফুলের উদাস করা অনিন্দ্য রূপ ধরা পড়ে ক্যামেরায়।এসময় দেখা যায়,ফুলের যেমন অনিন্দ্য রূপ,তেমনি পাতার কারুকাজ বিস্ময়কর।খাঁজ কাটা আউটলাইন।উঁচু শিরা।করাতের দাঁদের মতো দেখতে। প্রকৃতি যেন তার আপন খেয়ালে কাঁচি দিয়ে কেটে নান্দনিক নক্সা একেঁছেন।এমন দূশ্য তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে বার বার।তখন মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।সবুজ ডিম্বাকৃতির মত ফল ধিরে ধিরে প্রস্ফুটিত হয়।বাইরে সবুজ পাঁচটি মাংসল পাপড়ি দ্বারা বেষ্টিত।এর নিচে সাদা ধবধবে পাঁচটি পাপড়ি পেখম খুলে গোলাকার আকৃতি ধারন করে।এর ভিতর অংশ জুড়ে চাকতির মতো গোলাকার কাঁচা হলুদে ভরা অসংখ্য পুংকেশর।এ পুংরুষকেশরের উপরে তারকাকৃতির মতো সাজানো। ফুল খুবই ক্ষণস্থায়ী।ভোর বেলায় ফুল ফোটে সন্ধ্যায় ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ে।ফুল থেকে ফল হয়।এ ফুলের সৌন্দর্যের কথা লিখনিতে যেমন শেষ করা যায়না।তেমনি বহুবিধ ঔষধী ও পুষ্টিগুনে ভরপুর।বাংলার রমণীদের কাছে চালতার আচার-চাটনিসহ নিরামিষভোজী বিভিন্নপাতে এর কদর সর্বাগ্রে।ফল,পাতা,মূলে মিলছে মানবদেহের বহুরোগ নিরাময় ক্যালসিয়াম,ফসফরাস, আয়রন,ভিটামিন এ,বি,সিতে পরিপূর্ণ।ভিটামিন সি-এর পর্যাপ্ততার জন্য এটি টক স্বাদযুক্ত।পাকা চালতা টকমিষ্টি।চালতা স্কার্ভি ও কিডনি,লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে।এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান জরায়ু ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে এবং বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে।রক্ত আমাশয়ে গাছের কচি টাটকা পাতা বেটে তার রস এক কাপ ঠাণ্ডা পানিতে মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপশম হয়।মচকে গিয়ে ব্যথা পেলে সেখানে চালতা গাছের মূল ও পাতা পিষে প্রলেপ দিলে ব্যথা কমে যায়।জানা যায়,চালতার বৈজ্ঞানিক নাম উরষষবহরধ রহফরপধ।ফল এশীয় হাতিদের অতি প্রিয়।তাই এর ইংরেজি নাম ঊষবঢ়যধহঃ ধঢ়ঢ়ষব।বাংলাদেশ, নেপাল,আসাম,সিংহল ও মালয়ে চালতা জন্মায়।চালতা মাঝারি আকারের চিরহরিৎ জাতীয় বৃক্ষ।গাছ ১৫-২০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় হয়। চালতা গাছ লাভজনক না হলেও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ও শোভা বর্ধনে আমরা প্রত্যেকে একটি করে বাড়ির আঙিনায় গাছ লাখাই।পুষ্টিগুণ বুঝে বছরে একবার বিভিন্ন রিসিপির মাধ্যমে চালতা ফল খাই।পার্শপ্রতিক্রিয়া চিকিৎসা থেকে দুরে থাকি।ভেষজ চালতায় চির রোগমুক্ত জীবন গড়ি।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page