আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে আরিফুল ইসলাম ওরফে ‘বাটপার আরিফ’। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে ভুয়া গ্রুপ ও পেজ খুলে পেজ মনিটাইজেশন, হ্যাক হওয়া আইডি উদ্ধার, ফেসবুক আইডি ডিজেবল করা এবং লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই চক্রের প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন এলাকার যুবসমাজসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ফেসবুকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার ও লবণের পাইকারি বিক্রির মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। সম্প্রতি বাঁশখালীসহ আশপাশের এলাকায় ভুয়া লবণের বিজ্ঞপ্তির লোভ দেখিয়ে সাধারণ যুবক ও তরুণদের টার্গেট করছে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক এলাকার সহকর্মী বলেন, “ছেলেটা আগে এমন ছিল না; কিন্তু ইদানিং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যে ধরনের প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ আসছে, তা সত্যিই দুঃখজনক ও মানহানিকর।
সাতকানিয়ার এক গণমাধ্যমকর্মী এই প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আরিফ আমাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। তার প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমার একটি ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন এবং একটি ডিজেবল পেজ ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে ৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী আমি অগ্রিম ১ হাজার ৭০০ টাকা বিকাশেই পেমেন্ট করি এবং বাকি টাকা কাজ শেষে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পর সে পুনরায় হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে আরও টাকা দাবি করে। তার আচরণে সন্দেহ হলে আমি আর টাকা দিইনি। এরপর টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ ও গ্রুপ থেকে রিমুভ এবং ব্লক করে দেয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও জানান, তার দেওয়া মোবাইল নম্বরটিতে (০১৬৪৭১৩১১৭৯) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে আরিফ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কালক্ষেপণ করে এবং পরবর্তীতে ফোন কেটে দিয়ে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ ও তার সহযোগীরা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে অবৈধ পন্থায় হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আইডি ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)- মো. রবিউল হক‘র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ধরনের প্রতারক চক্রের ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীদের দ্রুত থানায় এসে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সাইবার অপরাধ দমনে আমাদের টিম সজাগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইসিটি অফিসার প্রকৌশলী শিমুল ভৌমিক বলেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু চক্র নানা লোভনীয় অফার, পেজ মনিটাইজেশন বা ডিজিটাল সার্ভিসের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। কাউকে অগ্রিম টাকা পাঠানোর আগে তার পরিচয় এবং প্রামাণ্য বৈধতা যাচাই করা উচিত। এ ছাড়া কোনো নাগরিক সাইবার বুলিং বা আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করতে পারেন কিংবা Cyber Police Bangladesh-এর অফিসিয়াল পেজ অথবা নিকটস্থ থানায় জিডি করতে পারেন।





মন্তব্য