মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর :
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নম্বর ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী এসব অভিযোগ করেছেন।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে কাজী আবুল কালাম ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদেও বহাল রয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। আবার কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।সোনালী ব্যাংক নগরকান্দা উপজেলা শাখা ব্যাংক হিসাব তথ্য অনুযায়ী ৮ নং ডাংগী ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা একাউন্টে জমা হওয়ার পরই কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিলেও ইউনিয়নের দৃশ্যমান কোন কাজ করেনি।বিজিডি কার্ডের চাল বিতরণ নিয়েও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। কার্ডধারীদের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়া এবং সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা চেয়ারম্যানের প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে অনেক বিষয়ে কথা বলতে পারেননি। সরকার পরিবর্তনের পরও চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম ইউনিয়ন পরিষদে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে তাদের অভিযোগ।ইউপি সদস্যরা আরও বলেন, ইউনিয়নে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয় ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা সরেজমিন তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তারা।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার নিজ এলাকায় এবং ফরিদপুর জেলা শহরে বহুতল বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ, বিজিডি কার্ডের চাল বিতরণ এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অনিয়মের প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।এ বিষয়ে চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন,” টাকা একাউন্টে রয়েছে। কাজ করা হবে।চাল ওজনে দুই কেজি কম ২৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে যাদের নামে কার্ড রয়েছে তাদের সাথে পরামর্শ করে দিয়েছি।এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ডাঙ্গী ইউনিয়নের বিগত কয়েক বছরের উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


মন্তব্য