আব্দুল্লাহ আল মারুফ,চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. ইউনুস নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং চরতী ইউনিয়ন থেকে মো. হাসান (৫০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে সাতকানিয়ার চরতী ও ছদাহা ইউনিয়ন থেকে পৃথকভাবে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের পানি চরতী এলাকার একটি বিদ্যুৎ খুঁটির পাশ থেকে মো. হাসান (৫০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাসান একই উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মরফলা এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গত কয়েক দিন ধরে নিহত ব্যক্তিকে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, তার মানসিক সমস্যা ছিল।
নিহতের মামা সাইফুদ্দিন জানান, তার ভাগিনার মানসিক সমস্যা ছিল এবং তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন ওই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ইউনুসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত মো. ইউনুস ছদাহা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান,উপজেলার পৃথক দুটি স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চরতী ইউনিয়নের পানি চরতী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মো. হাসানের শরীরে আঘাতের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ছদাহা ইউনিয়নে জায়গা-জমির বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. ইউনুস নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


মন্তব্য