রিপোর্ট : আব্দুল্লাহ আল মারুফ। কর্ণফুলী নদীর ঢেউয়ের ছন্দ আর লোকসংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে উঠল চট্টগ্রামের চরপাথরঘাটা এলাকা। চট্টগ্রামের আদি ঐতিহ্য সাম্পান সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে ও নদী রক্ষার অঙ্গীকারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০তম ‘সাম্পান খেলা ও চাঁটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলা’। এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল কক্সবাজারের উদীয়মান শিল্পী আকলিমা ইসলাম ইফতির অনবদ্য পারফরম্যান্স, যা উপস্থিত হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করে।
রোববার (১০ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। কর্ণফুলীর দুই পাড়ে ভিড় জমান হাজার হাজার উৎসবপ্রিয় মানুষ। মাঝিদের বৈঠার টানে নদীর বুক চিরে সাম্পানগুলোর এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা ও উল্লাস সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা জানান, চট্টগ্রামের বিলুপ্তপ্রায় সাম্পান সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই দুই দশক ধরে এই বার্ষিক মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় জয়ী দলগুলো হলো:প্রথম স্থান: চরপাথরঘাটার বড় সাম্পান সমিতির মোজাম্মেল মাঝির দল।দ্বিতীয় স্থান: শিকলবাহার ওহিদিয়া কাশেম মাঝির দল। তৃতীয় স্থান: চরপাথরঘাটার রনি মাঝির দল।
সাম্পানবাইচ শেষে সন্ধ্যায় আয়োজিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে মঞ্চে আসেন কক্সবাজারের জনপ্রিয় শিল্পী আকলিমা ইসলাম ইফতি। তার দরাজ কণ্ঠের গান আর ছন্দময় নৃত্য পারফরম্যান্সে সব বয়সী দর্শক মেতে ওঠেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ও লোকসংগীতের জাদুতে পুরো এলাকা এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
রাউজান থেকে আসা সংগীতানুরাগী বেলাল উদ্দিন বলেন,কর্ণফুলীর পাড়ে এমন আয়োজন সত্যিই অভাবনীয়। বিশেষ করে শিল্পী ইফতির পরিবেশনা ছিল চমৎকার। তিনি গান ও নাচের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আমাদের শিকড়কে মনে করিয়ে দেয়।
শিল্পীর অনুভূতি ও নদী রক্ষার বার্তা
অনুষ্ঠান শেষে শিল্পী আকলিমা ইসলাম ইফতি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন,চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি অভিভূত। কর্ণফুলী আমাদের প্রাণের স্পন্দন। সংস্কৃতির মাধ্যমে নদী রক্ষার এই লড়াইয়ে শামিল হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি।
উৎসব উদযাপন কমিটির কর্মকর্তারা জানান, সাম্পান শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি চট্টগ্রামের আদি পরিচিতি। নদী দখল ও দূষণ রোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আগামী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই মেলা যেন কর্ণফুলীর পাড়ে ঐতিহ্যের এক নতুন স্মারক হয়ে রইল।


মন্তব্য