এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> বাংলাদেশ-ভারত উপমহাদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কৃতি সন্তান ডিপুটি হযরত শাহ্ মোহাম্মদ বদিউল আলম জোলফক্কার শাহ জাহাঁগীরি (রহ.) (১৮৫৬–১৯৩১) মৃত্যুর ৯৭ বছর পর মরনোত্তর সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কর্ম ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ “ইতিহাসের পাঠশালা” কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ইতিহাস পুরস্কার-২০২৫’ প্রদান করা হয়।গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রাজধানীর বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে আয়োজিত জাতীয় ইতিহাস সেমিনার ও লেখক মিলন মেলায় এ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ডিপুটি শাহ্ বদিউল আলমের প্রৌপুত্র, ‘চট্টলানামা’র সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া। উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ইতিহাসবিদ সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, রোটারিয়ান ও বিশ্বপরিব্রাজক আলেয়া বেগম লাকী, প্রবীণ ইতিহাসবিদ ও চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ মোছলেম, ভাষা গবেষক ডা. মআআ মুক্তদীর এবং শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বিশিষ্টজনরা।উল্লেখ্য, ডিপুটি শাহ্ মোহাম্মদ বদিউল আলম জোলফক্কার শাহ জাহাঁগীরি (রহ.) ১৮৯২ সালে কলকাতা থেকে ইংরেজি দৈনিক ‘দি মোহামেডান অবজারভার’ প্রকাশ করেন। তিনি ১৯১৪ সালে ‘What is Man’ শীর্ষক গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ করেন, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত হচ্ছে।এছাড়া তিনি ১৯১৭ সালে হযরত আবদুল কাদের জিলানির (রহ.) বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ফতেহুল গয়ব’-এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে উপমহাদেশে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।কর্মজীবনে তিনি ১৮৮৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের নোয়াখালী অঞ্চলে ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীসহ বিভিন্ন ভারতীয় রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে দিল্লির লাল কেল্লায় কারারুদ্ধ হন বলেও জানা যায়।


মন্তব্য