আমজাদ হোসেন,আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) >>> জ্বালানি তেলের অভাবে জেনারেটর অচল থাকায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তীব্র লোডশেডিং ও প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাধ্য হয়ে হাতপাখাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।সরেজমিনে দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডজুড়ে বিরাজ করছে অস্বস্তিকর পরিবেশ। প্রতিটি বেডে থাকা রোগীর হাতে হাতপাখা। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কষ্ট আরও বেশি চোখে পড়ে। গরমে শিশুদের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়, আর স্বজনরা কোলে নিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন।হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ১০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটর দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালে আরও ৩০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটর সংযোজন করা হয়। কিন্তু জ্বালানি তেলের কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় দুটি জেনারেটরই বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে আছে।চিকিৎসা নিতে আসা আবুল কাশেম (৬০) জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও বিদ্যুৎ সংকটে রাত কাটানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। “রাতে মাত্র কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ ছিল, বাকি সময় অন্ধকারে থাকতে হয়েছে। গরমে ঘুমানোই সম্ভব হয়নি,” বলেন তিনি।আরেক রোগীর স্বজন আমেনা বেগম বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে যায়। জেনারেটর থাকলেও চালু করা হয় না। তাই বাড়ি থেকে হাতপাখা এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। “জেনারেটর থাকলেও তেলের কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না,” বলেন তিনি।দ্রুত জ্বালানি তেলের বরাদ্দ নিশ্চিত করে হাসপাতালের জেনারেটর সচল করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।


মন্তব্য