২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথন: ফ্লোরিডায় গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক বিশ্লেষক আটক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ টেস্টের আগে মুশফিক-তামিমের চোট নিয়ে আশাবাদী শান্ত নতুন মৌসুমে মোহামেডানের হাল ধরছেন স্প্যানিশ কোচ ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভারেলা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা, বাধা চীন-রাশিয়া ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে মারাকানায়, ফাইনালও হবে ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামে জ্বালানি ও আর্থিক সংকট নিরসনে কাতারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণে মিলবে ফ্রি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট: গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ উদ্যোগ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কি বাড়বে? জুলাই সনদের আলোকে সাংবিধানিক সংস্কারের সম্ভাবনা কান উৎসবে ঐশ্বরিয়ার নতুন অদেখা ছবি ভাইরাল, ফ্যাশনে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেত্রী ম্যাকাই টেস্টে চার পেসার খেলানো নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক:
সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথন: ফ্লোরিডায় গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক বিশ্লেষক আটক ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা, বাধা চীন-রাশিয়া জ্বালানি ও আর্থিক সংকট নিরসনে কাতারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণে মিলবে ফ্রি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট: গারুডা ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন হলে চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে বিদেশে পাঠানো হতে পারে: পাক সরকার ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান সরকার সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা বাংলাদেশি হাফেজ জাকারিয়া এফ-১৫জে যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নে বড় পদক্ষেপ জাপানের: নতুন চুক্তিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা এক-চীন নীতি নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের অবস্থানের প্রশংসা করল বেইজিং নয়া দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করল ভারত
     
             

ডিজিটাল ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

এস. এম জহিরুল ইসলাম >>> ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের সমাজে ছিল কালের পর কাল। কারণ সমাজে যেমন ধনী মানুষ থাকে তেমনী নানা কারণে মানুষ গরীবও হয়ে যায়। দুর্যোগ, মহামারী, নদী ভাঙ্গনসহ নানা অনুকূল পরিবেশের কারণে মানুষ দরিদ্র হয়ে যায়। একজন মানুষ যখন সব হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পরে এবং তার বেঁচে থাকার আর কোন সম্বল থাকে না তখন তিনি প্রথম নিজের পরিচিতজন, নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ধার দেনা করে চলতে থাকে। এক পর্যায়ে যখন নিজেদের জন্য আর সহযোগীতা নেয়ার কেউ থাকে না, তখন ভুক্তভোগী মানুষটি বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তির পথ। লোক লজ্জার ভয়ে প্রথমে দুরে গিয়ে শুরু করলেও ধীরে ধীরে সে হয়ে যায় পরিচিত একজন ভিক্ষুক। জীবনে স্বার্থক ও সফল মানুষটিও পেশা হয় ভিক্ষাবৃত্তি। আমাদের দেশে গণপরিবহন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে হাটবাজারে অসহায় মানুষকে ভিক্ষাবৃত্তিও করতে দেখা যায়। নগর মহানগরের প্রতিটি অলিগলিতে এখন ভিক্ষুকের যেন মিছিল নামে। এতে বুঝা যায়, দেশের মানুষ ভাল নেই। ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলিতে ভিক্ষুকদের জন্য রাস্তায় দাড়িয়ে একজন চালাতেও সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী জানা যায়, কেউ কেউ ভিক্ষুকদের নিয়ে রমরমা ব্যবসা করে। ঢাকার বস্তিতে ঘর ভাড়া নিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে শর্ত মোতাবেক ভিক্ষুক ভাড়ায় এনে কমিশন ভিক্ষা করায়। ভিক্ষা করে পাওয়া বড় অংশ টাকা চলে যায় কথিত ঐ ভিক্ষুক ঠিকাদারের পকেটে আর সামান্যই পায় ভিক্ষুক। এই চিত্র বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসিজদসহ দেশের বিখ্যাত মসজিদ ও মাজারগুলোতে হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বিভিন্ন মাজারেও নানা বেশে ভিক্ষুকদের দেখা মিলে। তারা কর্মক্ষম থাকলেও নানা অজুহাতে ও বিভিন্ন কাজে ভিক্ষাবৃত্তি করে থাকে। বর্তমান সময়ে আবার বের হয়েছে ডিজিটাল ভিক্ষাবৃত্তি। নিজেকে অসুস্থ পরিচয়ে ভ্যানগাড়ী, রিকসা বা রাস্তার পাশ্বে ভিক্ষা করার বিভিন্ন স্লোগানে রেকর্ড করে তা বানিয়ে ভিক্ষা করে থাকে। মসজিদে নামাজের সময়ও এই ডিজিটাল ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয় না, সব পরিবেশে পরিস্থিতিতে তাদের ভিক্ষার রেকর্ড জোরে জোরে সাউন্ড দিয়ে চলতেই থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে বা সামনে এই ভিক্ষার রেকর্ড বাজার কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও বিঘ্নিত হয়।হোটেল রেস্তোরা, খাবারের দোকান ও জনবহুল এলাকাগুলো বেঁছে নেয় ভিক্ষুকরা। বেশীরভাগ মানুষই ক্ষুদার জ্বালা মেটাতে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেয়। কেউ কেউ চিকিৎসার সহায়তার জন্যও মানুষের কাছে হাত পাতে। বর্তমানে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসাসহ রাস্তায় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন হাতে অনেকে চিকিৎসার জন্য সাহায্য পেতে দেখা যায়। এ ছাড়াও ছেলে মেয়ের বিবাহ, লাশ দাফন, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে নানা পদ্ধতিতে অনেককে কৌশলে ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেখা যায়। পূর্বে দেখা যেত অভাবী মানুষগুলো গোপনে শব্দহীনভাবে নিজের পেটের ক্ষুধা মেটাতে ভিক্ষাবৃত্তি করত। এখন অচল, পংগু, রোগা ও অসুস্থ মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন চালাতে দেখা গেলেও এখন তার বিভন্নরূপে। এখন সবল ও সুস্থ মানুষকেও ভিক্ষা করতে দেখা যায়। শরীরে কাজ করার শক্তি সামর্থ আছে এমন মানুষকে এখন রাস্তাঘাট, হাট বাজার বিশেষ করে মসজিদের সামনে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকের কাছে ভিক্ষ এখন বিনা কষ্টে আয়ের পথ। সরকারের সমাজসেবা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে সুধীজন মনে করেন। সরকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মুখে সমাজ উন্নয়নের নানা বক্তব্য আসলেও একটি দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। দারিদ্রতা আমাদের সমাজে থেকেই যায়। সরকারের নানা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভবঘুরে, ছিন্নমূল মানুষ দেশে দিন দিন বেড়েই চলছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক- এস এম জহিরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page