নয়া দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের অংশে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ও নিরাপত্তা বেষ্টনী উচ্ছেদ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে এসব স্থাপনা অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযানের সময় হাইকমিশনের বাইরের সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন অবকাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলা হয়। এর মধ্যে ভিসা বিভাগের সামনে দর্শনার্থীদের সারি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা স্থাপনাটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া কূটনৈতিক মিশনটির চারপাশে আগে থেকে থাকা ট্রাফিক বোলার্ড ও নিরাপত্তাবেষ্টনীও অপসারণ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার পর পুরো এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেখানে ভাঙা ধাতব রেলিং, বেঁকে যাওয়া কাঠামো এবং কংক্রিটের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া বাইরের কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ঢেউটিনের ছাদ ও সাদা ধাতব বেড়া উপড়ে ফেলা হয়েছে। সেবা প্রদানের জানালাগুলোর আশপাশের দেয়ালের প্লাস্টার ও গাঁথুনির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল প্রবেশপথ, সাদা দেয়াল, গম্বুজাকৃতির স্থাপনা এবং পাকিস্তানের প্রতীক সংবলিত বড় ধাতব গেটটি অক্ষত রয়েছে। কম্পাউন্ডের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া এখনো দৃশ্যমান।
ভারতের এই উচ্ছেদ অভিযানের ঠিক তিন দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে অভিহিত করে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রশংসা করেন। এই মন্তব্যের জেরে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি বেকারকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। তবে নয়া দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে চালানো এই উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে পাকিস্তানের ওই প্রতিক্রিয়ার কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ভারত বা পাকিস্তান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য