২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
মহেশখালীতে পুলিশের অভিযানে ১,৪৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ বন্যার পর চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে চসিক ও জেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জে বাল্যবিবাহরোধ ও মোবাইল আসক্তির উপর শিশুনেতৃত্বাধিন প্রচার অভিযান  শিবপুরে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বারোপ মহেশখালী থানা পুলিশের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুত স্থানে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন বেসরকারি উদ্যোগ সরকারের কাজকে শক্তিশালী করেছে এমপি শাহজাহান চৌধুরী পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কারিতাসের ত্রাণ বিতরণ। চকরিয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত
আন্তর্জাতিক:
শাম্মী তুলতুল—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন মেসি কুরাসাওকে হারিয়ে ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য
     
             

সাতকানিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বছরে ঘুষ বাণিজ্য ১০ কোটি টাকা

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক >>> ৫ আগস্ট এর পর সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি দেশের দেশের ঘোষ বাণিজ্য চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখনো ঘুষ বাণিজ্যের আখড়া হয়ে আছে। প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে মৌজা মূল্যের ন্যূনতম ১ শতাংশ টাকা ঘুষ দিতে হয়। দলিল যেকোনো ধরনের হোক না কেন এবং সরকার রাজস্ব পাক বা না পাক, এই অর্থ অফিসে জমা না দিলে দলিলে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করেন না। আর এই টাকা হাতবদল হয় অফিসের কর্মচারী শাকিলের মাধ্যমে। গত কয়েক মাস ধরে রেজিস্ট্রি অফিস, সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ উঠেছে, সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে সাফ কবলা, দানপত্র ও এয়াজনামা থেকে। তবে হেবা ঘোষণাপত্র ও পাওয়ারনামার মতো দলিলে সরকার রাজস্ব পায় না। অথচ এই দলিল রেজিস্ট্রিতেও মৌজা মূল্যের ১ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ৫৫ লাখ টাকার একটি হেবা দলিল রেজিস্ট্রির সময় তার কাছে দলিল লেখক প্রথমে মৌজা মূল্যের ২ শতাংশ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির পর ৭০ হাজার টাকায় কাজ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৪০ হাজার টাকা অফিসে ঘুষ হিসেবে জমা দেয়া হয়। একাধিক দলিল লেখকও স্বীকার করেছেন, ওয়াক্‌ফ দলিল ছাড়া সব দলিলে এভাবে ঘুষ দিতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আইনজীবী বা দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ক্ষেত্রে এ ঘুষ কিছুটা কমানো হয়। তবে ছাড়ের পরিমাণ সাধারণত ০.৩ শতাংশের বেশি নয়। রাজস্বের হিসাবে দেখা যায়, গত জুন থেকে আগস্ট তিন মাসে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকার পেয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী বছরে রাজস্ব দাঁড়ায় প্রায় ৫২ কোটি টাকা। আর এই টাকা তিন প্রকার দলিল তথা সাফ কবলা, দানপত্র ও এয়াজনামার ওপর ভিত্তি করে ১ বছরে রেজিস্ট্রিকৃত মৌজামূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। অথচ একই পরিমাণ রাজস্ববিহীন দলিলও রেজিস্ট্রি হয়। অর্থাৎ বছরে সর্বমোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা মৌজা মূল্যের দলিল রেজিস্ট্রি হয়। যেখান থেকে অন্তত ১০ কোটি টাকা ঘুষ সংগ্রহ করে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, এই ১ শতাংশ প্রথা দীর্ঘদিনের। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতবদল হয়, তবে এর বেশির ভাগ সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ভাগ হয়ে যায়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে এই টাকা আদায় করা হয়। দলিল লেখকরা কেন প্রতিবাদ করেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সরকারি সনদ নবায়নের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের সুপারিশ লাগে। এ ছাড়া ঘুষ বন্ধ হলে রেজিস্ট্রির সংখ্যা কমে যাবে, ফলে দলিল লেখক ও অফিস সংশ্লিষ্টদের আয়ও কমবে। তাই কেউ মুখ খুলে না। এ বিষয়ে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ডাকযোগে পাঠানো চিঠির দুই মাসেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমান বলেন, ঘুষ লেনদেনের কথাটা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। যেহেতু এখানে দলিল লেখকদের একটা সংশ্লিষ্টতা আছে, সুতরাং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রকৃত অপরাধীকে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট করতে পারবো। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলছে। ভুক্তভোগীরা যদি সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন অথবা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবো। এক্ষেত্রে কারও প্রভাবশালী পরিচয় বা পদমর্যাদা দেখেও ছাড় দেয়া হবে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page