৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চাটখিলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে মেয়র প্রার্থী মাসুদ রানা’র ছাতা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীকে নব্য ফ্যাসিবাদের পাহারাদার বললেন নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী কোম্পানীগঞ্জ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল। আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে মতবিনিময় সভা ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ায় কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ। পশ্চিম রেলের সদর দপ্তরে বকেয়া বিল নিয়ে ঠিকাদারদের হাতাহাতি পীরগঞ্জে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্য পীরগঞ্জ থানার উদ্যেগে মত-বিনিময় সভা দোয়ারাবাজারে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে তিনবোনের স্ট্রাম্পে টিপছাব স্বাক্ষর আদায়, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবা জব্দ চাঁদাবাজ ধরতে গিয়ে অতর্কিত হামলা ১২ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ অস্ত্রসহ আটক ১ 
আন্তর্জাতিক:
সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক
     
             

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আবদুর রাজ্জাক,কক্সবাজার ।। পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ডলফিন মোড ও সুগন্ধা সড়কের দুপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অসহায় বাদাম-ঝালমুড়ি, ডিম বিক্রেতাও এর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা প্রকাশ্যে ও জোরপূর্বক এ চাঁদার টাকা আদায় করছেন বিচকর্মীরা। কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী ও ইনানীর শতাধিক হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেনের নির্দেশেই প্রতিদিন এই চাঁদার লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন বিচকর্মীরা। কর্মীদের অনেকে বিষয়টি এই চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন।বিচকর্মীদের চাঁদাবাজির বিষয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিবেদক ও সম্পাদককে ডেকে নিয়ে পত্রিকার ডিক্লারেশন বন্ধের হুমকি দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় অনিয়মের বিষয় তুলে ধরায় দৈনিক সমুদ্রকণ্ঠ নামে একটি স্থানীয় পত্রিকাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ কার্ড দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসার প্রকার ভেদে সৈকতের হকার ও সড়কের পাশের ভ্রাম্যমাণ ৪০০ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ‘জেলা প্রশাসনের নামে’ দৈনিক ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। এভাবে দৈনিক এক থেকে দেড় লাখ টাকা এবং বছরে অন্তত ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী ও ইনানী সমুদ্র সৈকতে ৪’ শর বেশি হকার রয়েছে। তারা প্রতিদিন সৈকতে হেঁটে হেঁটে পর্যটকদের কাছে বাদাম, ঝালমুড়ি, চিপস, চা, কফি, পানি, জুস, ডিম, ঝিনুক, আচার, পান ও সিগারেট বিক্রি করেন। এসব হকারের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা নেন জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মীরা।কোনো হকার টাকা দিতে না পারলে সৈকতে ফেলে দেওয়া হয় মালামাল। আবার কখনো কখনো মালামাল জব্দ করে হকারদের আটক করে রাখা হয় জেলা প্রশাসনের বক্সে। এরপর টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সুগন্ধা সড়কের একপাশে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে ২ শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান।এসব দোকানে রয়েছে ফিশ ফ্রাই, বিরিয়ানি, চা, ডিম, ঝিনুক, শুঁটকি, কাপড়, চশমা, আচারসহ বিভিন্ন পণ্য। আরেক পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা হয়েছে মেহেদি মার্কেট। সেখানেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ৬২টি দোকান। এসব অস্থায়ী মার্কেট ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে বিচকর্মীরা।চাঁদার রেট বাড়ানোর জন্য মাসে কয়েকবার ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে চালানো হয় অভিযান। অভিযান শেষ হলে ম্যাজিস্ট্রেটকে ম্যানেজের নামে চাঁদার রেট বাড়িয়ে দেন বিচকর্মীরা। বাদাম-ঝালমুড়ি, ডিম বিক্রেতাদের অভিযোগ, যেখানে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বিক্রি করে সংসার চালানো দায় হয়ে যায়, সেখানে বিচকর্মীরা ম্যাজিস্ট্রেটের কথা বলে দৈনিক চাঁদা দিতে বাধ্য করেন। চাঁদা না দিলে সবকিছু কেড়ে নিয়ে সৈকতের বালিতে ফেলে নষ্ট করেন। শুধু তাই নয়, কেউ যদি নতুন দোকান বসাতে চায় গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। সম্প্রতি কয়েকটি নতুন ফিশ ফ্রাই ও অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ দোকান বসাতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেনের অফিসের এসি ও আসবাবপত্রের জন্য কয়েক লাখ টাকা চাঁদাও তোলেন বিচকর্মীরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিচকর্মীদের চাঁদাবাজির বিষয়টি তাদের একান্ত মনে করে কয়েকজন ব্যবসায়ী অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেনকে অভিযোগ দিলে উল্টো বিচকর্মীদের কথামতো না চললে দোকান বন্ধের হুমকি দেন তিনি। সম্প্রতি দুই বিচকর্মীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে ক্যামেরা জব্দ করে রেজিস্টার বইতে লিপিবদ্ধ না করা এবং মাদকদ্রব্য ক্রয় ও সেবনের অভিযোগে লিখিত কারণ দর্শানোর জন্য দুটি নোটিশ দিয়েছিলেন কক্সবাজার পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে প্রমোশন।সমুদ্র সৈকতের একাধিক হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী বলেন, বিচকর্মীদের প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয়। টাকা না দিলে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়। চলে উচ্ছেদের পাঁয়তারা। শফিউল, তহিদুল, রিপন, জাহেদ ও বেলালসহ বেশ কয়েকজন বিচকর্মী চাঁদা আদায় করে। সুগন্ধার কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর বড় সুবিধাভোগী হলো জেলা প্রশাসন। তারাই চাঁদার বিনিময়ে সমুদ্রসৈকত ও রাস্তার দুপাশে টিকিয়ে রেখেছে। তাই এটা তারা সহজে বন্ধ করবে না। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও হকার থাকলে চাঁদাবাজিও থাকবে, তাদের পকেটও ভরবে। চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বিচকর্মী একইরকম তথ্য দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন স্যার যোগদান করার কিছুদিন পর থেকে তাদের মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলতে বাধ্য করেন। আগেও আমরা চাঁদা তুলতাম কিন্তু সেটা নিজেদের খরচের জন্য সামান্য। এখন টার্গেট করে দৈনিক এক থেকে দেড় লাখ চাঁদা তুলতে হচ্ছে।দীর্ঘ অনুসন্ধানে মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। অনুসন্ধান চলাকালে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের নজরে আনা হলে অনেকটা তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেনকে (এডিএম) সরিয়ে সার্বিক ও পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানাকে স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অধীনে শতাধিক বিচকর্মী রয়েছে। বিচকর্মীদের ইনচার্জ মো. হোসেন জানান, তাদের ৩৮ জনের কাজ হচ্ছে পর্যটকদের সেবাসহ নিরাপত্তার দেখভাল করা। বাকিদের কাজ বিচ পরিষ্কার করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, চাঁদা আদায়েই বেশি ব্যস্ত থাকে তারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বৃহস্পতিবার থেকে (এডিএম) এর দায়িত্বে নেই জানিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, কেউ কখনো আমার কাছে কেউ এসব বিষয়ে অভিযোগ করেনি। তবে কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

চাটখিলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে মেয়র প্রার্থী মাসুদ রানা’র ছাতা বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীকে নব্য ফ্যাসিবাদের পাহারাদার বললেন নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী
কোম্পানীগঞ্জ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল।
আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে মতবিনিময় সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ায় কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ।
পশ্চিম রেলের সদর দপ্তরে বকেয়া বিল নিয়ে ঠিকাদারদের হাতাহাতি
পীরগঞ্জে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্য পীরগঞ্জ থানার উদ্যেগে মত-বিনিময় সভা
দোয়ারাবাজারে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে তিনবোনের স্ট্রাম্পে টিপছাব স্বাক্ষর আদায়, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

You cannot copy content of this page