২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চাটখিলের হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়ন মাদকবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার রয়েছে ৬ মামলা চাকরিতে পুনর্বহাল সহ ১০ দফা দাবীতে চট্টগ্রামে পাঁচ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মানববন্ধন, স্মারকলিপি সখিপুরে উপজেলা পুকুরে মিলল নিখোঁজ স্কুল শিক্ষার্থীর মরদেহ নরসিংদীর মনোহরদীতে বজ্রপাতে মাদ্রাসার ৩ ছাত্র নিহত,আহত ৬ জন মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত “”” প্রবাসীদের সমস্যা ও কনস্যুলার সেবা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে আলোচনা “” পটিয়ায় শিশু জায়হান হত্যার খুনি নিহা ছিলেন সাইকো প্রকৃতির। চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ চরমে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ সহ গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক রেজানুর জামিনে মূক্ত
আন্তর্জাতিক:
শাম্মী তুলতুল—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন মেসি কুরাসাওকে হারিয়ে ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য
     
             

আবুপুর-মৃধারহাট-মীরগঞ্জ সেতু নির্মিত হলেই পদ্মাসেতুর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাবে দক্ষিণাঞ্চলবাসীএস এম জহিরুল ইসলাম ॥

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি বিষয় ছিল পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন। অবশেষে শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ শেষ করে গত ২৫ জুন ২০২২ উদ্বোধন হয়েছে আমাদের স্বপ্নের পদ্মাসেতু। স্বপ্নকে বাস্তবায়নে রূপ দিয়েছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলা হয়ে থাকে দেশে ২১ জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে এই পদ্মাসেতু। শুধু তাই নয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকায় কাজ করছে পদ্মাসেতু। জানা গেছে, পদ্মাসেতুর মূল কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। সর্বমোট পদ্মাসেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন করতে নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। তার মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, নদী শাসন, সেনানিবাস নির্মাণ, দুই পাশে থানা ও মসজিদ নির্মাণ, পরিবেশগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করা, গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, বৃক্ষরোপন, যাদুঘর স্থাপন ইত্যাদি। সবকিছু মিলিয়ে পদ্মাসেতুর সুবিধাভোগী আমরা।কাগজে কলমে বা কথায় যদিও বলা হয়ে থাকে ২১ জেলার মানুষ সুবিধা পাচ্ছে পদ্মাসেতুর। কিন্তুু অনেক সময় আলোর নিচেই থেকে যায় অন্ধকার। এই ২১ জেলার অনেক এলাকার মানুষই যোগাযোগ ব্যবস্থায় পদ্মাসেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার মধ্যে শরীয়তপুরও রয়েছে। এ জেলার উপর দিয়ে পদ্মাসেতু হলেও জেলাবাসী তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি। পদ্মাসেতু হয়ে শরীয়তপুর জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলার সংযোগ সড়কগুলোর বেহাল দশা। সেখানে যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল খুবই কষ্টের বিষয়। শরীয়তপুরের উপর দিয়েই যেতে হয় বরিশাল জেলার মুলাদী, হিজলা বাবুগঞ্জ উপজেলায় যেতে হয়। এছাড়াও বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ উপজেলা, কাজিরহাট থানা ও ভোলার কিছু অংশের যাতায়াত এই পথে খুবই সহজ। শরীয়তপুর থেকে গোসাইরহাট হয়ে বরিশালের হিজলা ও মুলাদী খুব কাছে। কিন্তু সেখানে একমাত্র বাধা আবুপুর-মৃধারহাট নদী। বর্তমানে হাজার হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পার হচ্ছে। এ পথে এভাবে মানুষ যাচ্ছে মুলাদী বাবুগঞ্জ হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, কাজিরহাটসহ বেশক’টি এলাকায়। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য আবুপুর-মৃধারহাট সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের পথের দূরত্ব অনেকাংশেই কমবে এবং অর্থও সাশ্রয় হবে অনেক অর্থ। এখন ঐ এলাকার অনেকেই বলছে সেতুটি ভেদুরীয়া মৃধারহাট হলে নদী শাসন ও এ্যাপ্রোজ সড়ক অনেকটাই কমবে। কেউ কেউ বলছে ছবিপুর বোয়ালিয়া দিয়ে সেতুটি হলে সরকারের খরচ বাঁচবে অনেক। কিন্তু ঐ এলাকায় সাধারণ মানুষের কথা হল সরকারের যেখান দিয়ে সুবিধা সেখান দিয়েই সেতু নির্মাণ করা হোক। তাহলে পদ্মাসেতুর শতভাগ সুবিধা পাবে এই এলাকার সাধারণ মানুষ। মুলাদী; বাবুগঞ্জ, হিজলা, কাজীরহাট এলাকায় যেতে আরেকটি উপায় হল, ঢাকা থেকে পদ্মা ব্রীজ হয়ে বরিশাল বিমানবন্দর এলাকায় অর্থাৎ রহমতপুর বাসষ্ট্যান্ড নেমে মীরগঞ্জ নদীর পাড় হয়ে যেতে হয়। সেখান দিয়ে ফেরী, ট্রলার বা নৌকায় পার হয়ে যেতে হয় মুলাদী প্রান্তে তারপর হিজলা ও কাজীরহাট। তাতে একজন যাত্রীকে পারি দিতে হয় বহুপথ। আর আবুপুর-মৃধারহাট সেতু নির্মিত হলে দূরত্ব অনেক কমবে পাশাপাশি মানুষের নানাবিধ কষ্ট লাঘব হবে। মুলাদী উপজেলার একটি দ্বীপ ইউনিয়ন রয়েছে। চারপাশে নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়নে সরাসরি কোন সড়ক যোগাযোগ এতদিন ছিল না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মোঃ এমদাদুল হকের প্রচেষ্টায় রামারপোলে উচ্চতর বাজেটের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সেতুটি চালু হলে ভুরঘাটা, কালকিনি হয়ে মানুষ নাজিরপুরে যাতায়াত করবে। পাশাপাশি মুলাদীর পাতারচর এলাকার পাইতিঘাট থেকে কুতুবপুর সেতুটি হলে নাজিরপুর হবে একটি ঐতিহাসিক পর্যটন এরিয়া। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ইমদাদুল হকের হাতের ছোয়ায় নাজিরপুর বাংলাদেশের একটি মডেল ইউনিয়ন। এরকম অভ্যন্তরিণ আরও ২/১ ছোট ছোট সেতু নির্মাণ হলেও সংশ্লিষ্ট রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য পদ্মাসেতুর সেবা পৌঁছে যাবে প্রতিটি মানুষের দৌড়গোড়ায়। আর আবুপুর-মৃধারহাট-বীরগঞ্জ সেতুটি নির্মিত হলে এই পথে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা যাতায়াত অনেক সহজ থেকে সহজতর হবে। হবে এলাকার বহুমুখী উন্নয়ন। কাজীরহাট থানার আলীরহাট নদীতে মেহেন্দীগঞ্জের সংযোগ সেতু নির্মিত হলে পদ্মাসেতুর সুবিধা পাবে পুরো মেহেন্দীগঞ্জবাসী। সেখান থেকে ভোলাবাসীর যাতায়াতেরও অনেক সুবিধা হবে।

লেখক : এস এম জহিরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page