নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের একটি জরুরি সভা থেকে সংকটে পড়া পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।সংগঠনের সভাপতি মুফতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন।সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় তিন কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এখন হুমকির মুখে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে না পেরে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন।গ্রাহকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ও নির্দিষ্ট সময় পরপর অর্থ ছাড় করার কথা থাকলেও বর্তমানে মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে আমানতকারীদের দুর্ভোগ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রাহকদের কষ্টার্জিত আমানতের অর্থ কর্তন বা তথাকথিত হেয়ারকাট’ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেশের সাধারণ আমানতকারীরা কখনোই মেনে নেবে না। ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ গ্রাহক বহন করবে না। তারা তাদের সঞ্চিত অর্থের শতভাগ নিরাপত্তা এবং তা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার আইনি নিশ্চয়তা চান।সংকটের স্থায়ী ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রধান তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়:১.সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর সাধারণ লেনদেন প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্বাভাবিক করা।২.আমানতের অর্থ কর্তন বা ‘হেয়ারকাট-এর মতো গণবিরোধী যেকোনো প্রস্তাব স্থায়ীভাবে বাতিল করা।৩. আমানতকারীদের গচ্ছিত রাখার প্রতিটি টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে এই ব্যাংকগুলোকে পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে নেতারা বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে লাখ লাখ গ্রাহকের উদ্বেগ দূর করা হবে।সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি খালেদ মোশাররফ, এম এ কাদের, আয়ম উদ্দিন ও শারমিন আক্তার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জাবেদ বিশ্বর এবং যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় আমানতকারীবৃন্দ।


মন্তব্য