আব্দুল্লাহ আল মারুফ,চট্টগ্রাম সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নে ২ অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীদের সুপরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। নিখোঁজের পর দিন পেরিয়ে গেলেও হদিস না মেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।এ ঘটনায় গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) সাকালে নিখোঁজ কিশোরীর বাবা জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৪১২, জিডি ট্র্যাকিং নম্বর- 3E9Y6J) করেছেন।জিডি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীনের নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় ‘ইউনাইটেড আইডিয়াল ইনস্টিটিউট’ নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর বিকেল গড়িয়ে গেলেও সে বাড়ি ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জয়নুল আবেদীন ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়েটি অত্যন্ত সরল-সোজা। স্থানীয় একটি চা-বাগানে কর্মরত হিন্দুর ছেলে টুটুল ও আরও কয়েকজন যুবক তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রলোভনসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সুপরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমার মেয়েকে যেন দ্রুত সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আমাদের বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।এদিকে ঘটনার পর থেকে চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও ও আশেপাশের এলাকায় সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হলে স্থানীয় সচেতন মহল আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী কায়সার হামিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৩ বছরের দুই জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের নিখোঁজ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই বয়সের একটি শিশু নিজের ভালো-মন্দ বিচার করার মতো পরিপক্ব নয়। তবে এই ঘটনাটিকে কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ এবং আইনি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় কখনোই পুরো সম্প্রদায়ের ওপর বর্তায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি।চরতী ইউনিয়নের একজন স্থানীয় সমাজসেবক মাওলানা জয়নুল আবেদিন জানান, এ ধরনের ঘটনা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত করে তুলছে। আমরা এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থন করি না। আমরা শান্তি ও সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে দাবি, অবিলম্বে মেয়েটিকে উদ্ধার করে মূল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।সাতকানিয়া থানা পুলিশ জানায়, সাধারণ ডায়েরিভুক্ত হওয়ার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন,আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজ ডায়েরি পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের সত্যতা উদঘাটনে আমাদের বিশেষ টিম কাজ করছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


মন্তব্য