জিয়া (শিবপুর) প্রতিনিধি
দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাহফুজুর রহমান টুটুল, মাসুম বিল্লাহ, কারিম আহসান, ইমরান মৃধা সহ সহযোগিতাকারীরা।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কুমরাদীতে বিদ্যুতের ঝুলন্ত তারে জ/ড়িয়ে মা/রাত্মকভাবে আহত সাত বছর বয়সী শিশু রায়হানের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই সহায়তার অর্থ দিয়ে রায়হানের চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট টাকা তার ভবিষ্যতের চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।দরবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) রায়হানের বাবার হাতে অবশিষ্ট অর্থ হস্তান্তর করেন শিবপুর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান টুটুল, ইটাখোলা আলোর দিশারি সামাজিক সংগঠনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক কারিম আহসান, ইটাখোলা সিএনজি স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতা ইমরান মৃধা এবং পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রতন খন্দকার।অর্থ বুঝে পেয়ে রায়হানের বাবা সকল সহযোগিতাকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই সহায়তা তার অসহায় পরিবারের জন্য অনেক বড় স্বস্তি ও আশার আলো।দুর্ঘটনায় থমকে যায় ছোট্ট রায়হানের জীবন উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় শিশু রায়হান। মুহূর্তের মধ্যে তার স্বাভাবিক জীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। প্রথমে তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।রায়হানকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়। যে বয়সে শিশুরা স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে, হাসি-আনন্দে মেতে থাকে, সেই বয়সেই রায়হানকে মুখোমুখি হতে হয় জীবনের কঠিন বাস্তবতার।অসহায় বাবার পাশে দাঁড়ান মানবিক মানুষেরা রায়হানের বাবা একজন দরিদ্র মানুষ। অন্যের দোকানে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেই যেখানে তাকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার দায়িত্ব বহন করা ছিল তার কাছে প্রায় অসম্ভব।সন্তানের কষ্ট আর চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দিশেহারা বাবার অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন শিবপুর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান টুটুল, ইটাখোলা আলোর দিশারি সামাজিক সংগঠনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক কারিম আহসান এবং ইটাখোলা সিএনজি স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতা ইমরান মৃধা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায়হানের চিকিৎসায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানবিক মানুষ যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তা পাঠান। সম্মিলিত সেই সহযোগিতায় এগিয়ে চলে রায়হানের চিকিৎসা।স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত মানবিক সহায়তা সংগ্রহের পাশাপাশি সংগৃহীত অর্থের সঠিক হিসাব রাখা এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ রায়হানের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।মাহফুজুর রহমান টুটুল, মাসুম বিল্লাহ, কারিম আহসান, ইমরান মৃধা তাদের এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের আস্থা, দায়িত্ববোধ ও স্বচ্ছতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।মানুষের বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় পরিবারের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করা এবং মানুষের দেওয়া অর্থ যথাযথভাবে তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই তারা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।রায়হানের ভবিষ্যৎ যেন থেমে না যায় রায়হানের সামনে এখনো দীর্ঘ পথ। তার প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, মানসিক সাহস, শিক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ। একটি হাত হারানোর কষ্ট নিয়ে যেন তার ভবিষ্যৎ থেমে না যায়, সে যেন আবার স্কুলে যেতে পারে, পড়াশোনা করতে পারে এবং একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—এটাই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।রায়হানের চিকিৎসার জন্য যারা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছেন, যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন—সবার প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।মানবিক মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় রায়হানের চিকিৎসার একটি কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে এসেছে তার পরিবার। তবে তার ভবিষ্যৎ সুন্দর ও নিরাপদ করতে সমাজের মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা এখনো প্রয়োজন।মানুষ মানুষের জন্য—রায়হানের পাশে দাঁড়ানো সেই মানবিক সত্যেরই এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ।সকলের অবগতির জন্য সংগৃহীত অর্থের হিসাব তুলে ধরেছেন তারা। সর্বমোট অর্থ সংগ্রহ: ৭,৭২,০৮৫ টাকা।এর মধ্যে—তাদের মাধ্যমে সংগৃহীত: ৫,৫৫,০৮৫ টাকা।- রায়হানের বাবা সাত্তারের কাছে সরাসরি সংগৃহীত: ২,১৭,০০০ টাকা।মাসুম বিল্লাহ ও কারিম আহসান তাদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের হিসাব:- চিকিৎসা বাবদ খরচ: ৮৫,০০০ টাকা।- রায়হানের বাবা সাত্তারের হাতে নগদ প্রদান: ৪,৪০,০৮৫ টাকা।- তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান: ৩০,০০০ টাকা।রায়হানের বাবার কাছে সরাসরি সংগৃহীত ২,১৭,০০০ টাকার খরচের হিসাব তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।যাঁরা অর্থ দিয়ে, শ্রম দিয়ে, প্রচার করে কিংবা দোয়ার মাধ্যমে রায়হানের পাশে দাঁড়িয়েছেন, প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন টুটুল রহমান, মাসুম বিল্লাহ, কারিম আহসান।





মন্তব্য