আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি সাইফুলকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭। গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন তুলাতলী হাফেজ নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত সাইফুল রাঙ্গামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা থানার ধলিয়া মুসলিম পাড়ার মোঃ ছাবেরের ছেলে। মামলার এজাহারে সে ২ নম্বর আসামি।র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম রিকু আক্তার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার জয়নগর এলাকার বাসিন্দা। গত ২৪ মে বিকেলে প্রতিদিনের মতো তাদের পালিত ছাগলগুলো মাঠে ঘাস খেয়ে বাড়ি ফিরে না আসায়, সে সেগুলোকে খুঁজতে বের হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় নুরুল কবির হুজুরের বাড়ির সামনে একা পেয়ে ১নং আসামি মোঃ বাদশা মিয়া তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়।পরবর্তীতে বাদশা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাইফুলসহ অন্য সহযোগীদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। এরপর আসামিরা ভিকটিমকে অবরুদ্ধ করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। লোকলজ্জা ও প্রাণনাশের ভয়ে ভিকটিম বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখলেও, শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৯ মে তার মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করে।এই নৃশংস ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ৩০ মে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে, মামলার অন্যতম পলাতক আসামি সাইফুল মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। গত ১০ জুন সন্ধ্যা অনুমান ৭টা ৪০ মিনিটে তুলাতলী হাফেজ নগর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মন্তব্য