বিএসপি আন্তর্জাতিক ডেস্ক >>> পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত দাবি’কে দায়ী করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ১২ এপ্রিল(রোববার) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানি প্রতিনিধি দল টানা ২১ ঘণ্টা ধরে নিবিড় আলোচনা চালায়। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সংকট নিরসনে তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক গঠনমূলক প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে মার্কিন পক্ষের একগুঁয়েমি ও কঠোর শর্তের কারণে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো ধরনের কাঠামো বা সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই আলোচনার টেবিল ত্যাগের অজুহাত খুঁজছিল। অন্যদিকে প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের এমন কিছু দাবি ছিল, যা তেহরানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সবচেয়ে দীর্ঘ সরাসরি বৈঠক। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘শেষ ও সেরা প্রস্তাব’ দিয়ে আলোচনা ত্যাগ করায় সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।এর আগে জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো মৌলিক প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তারা কোনো চুক্তিতে সই করবে না।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলেছে। সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হয়নি।বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা অব্যাহত আছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ সৃষ্টি করছে, তাকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। তবে ইরানকে তাদের প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তেহরানের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন শর্তে পরিবর্তন না এলে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণই থেকে যাবে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।


মন্তব্য