আবুল হাশেম,রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ>>>
“তোমার হাত পাখার বাতাসে প্রাণ জুরিয়ে আসে
কিছু সময় আরও তুমি থাকো আমার পাশে,যখন কপি জলা রাতে আমার থালার গরম ভাতে
পুঠি মাছের ঝুল তুলে দাও তুমি আপন হাতে,সাড়া দিনের কষ্ট ভুলে মনটা আমার হাসে,তোমার হাত পাখার বাতাসে প্রাণ জুরিয়ে আসে।আমার ছোট্ট ভাঙা ঘরে যেন চাঁদের আলো ঝড়ে
ঘুমাও যখন মাথা রেখে আমার বুকের উপরে
মনটা আমার স্বপ্ন হয়ে চাঁদের খেয়ায় ভাসে
তোমার হাত পাখার বাতাসে”গানটি দেশের সবচেয়ে উষ্ণতম অঞ্চল ও শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা নাটোরের লালপুর বাসীর মনে বারবার দোলা দিচ্ছে।প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম ও ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং-এ একটু স্বস্তি পেতে শতভাগ বিদ্যুৎ নির্ভরশীল এলাকার মানুষের কাছে কদর বেড়েছে তালপাতার তৈরি হাতপাখার।চাহিদা বাড়ায় পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ।নাটোরের লালপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপ প্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ। এরপর ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং।এরই ধারাবাহিকতায় লালপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামের মোড়ে মোড়ে তালপাতার তৈরি হাত পাখা বিক্রি করতে দেখা গেছে।সেই সাথে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অনেক মানুষ তাদের কাছ থেকে পাখা কিনছেন।উপজেলার দুড়দুড়িয়া হাট-বাজারে এক পাখা বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান,গরম যত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাল পাতার তৈরি হাত পাখার কদরও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।লোডশেডিং এর আগে যেখানে দিনে ৪০-৫০ পিস পাখা বিক্রি হতো,সেখানে গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম ও ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং-এর কারনে এখন প্রতিদিন ১৫০-২০০ পিস পাখা বিক্রি করছি। প্রতিটি পাখা ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
তালপাখা কিনতে আসা দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ফারুক হোসেন জানান,বর্তমানে প্রচণ্ড গরম সেই সঙ্গে ঘন্টায় ঘন্টায় বৈদুতিক লোডশেডিং,তাই গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে তিনি তালপাতার তৈরি হাতপাখা কিনেছেন।ওয়াহাব নামের এক পাখা ক্রেতা বলেন,সমাজের ধনী লোকেরা বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালুর মাধ্যমে গরম থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু আমাদের তো আর সেই সামর্থ্য নেই।তাই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এই তালপাখাই আমাদের একমাত্র ভরসা।বাজার ঘুরে দেখা গেছে,ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রেতারা আইপিএস,চার্জার ফ্যান, চার্জার লাইট কিনতেও বাজারে ভিড় করছেন বেশি।ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রেতা মানিক,নাজমুল ও আকতার হোসেন জানান,আগে আমার দোকানে চার্জার ফ্যান, চার্জার লাইট, আইপিএসের কাস্টমার (ক্রেতা) ছিল হাতে গোনা।কিন্তু ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং আর তীব্র তাপ প্রবাহে কাস্টমার অনেক বেড়ে গেছে। দামও বেড়েছে।
মন্তব্য