২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
সাতকানিয়ায় গভীর রাতে মাদরাসায় তাণ্ডব, রক্তাক্ত এতিম শিশুরা মরজাল ইউপি নির্বাচন: ভোটারদের পছন্দের শীর্ষে আমজাদ হোসেন কাবা শরিফের গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম, বাংলাদেশের অনন্য গৌরব মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ভাসল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী মিরপুরে পটুয়াখালী পুলিশের ঝটিকা অভিযান: ২০ লাখ টাকার সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্বপন গ্রেফতার। সুনামগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগরে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে জনতা ইয়াবাসহ আটক করে,কামড়ে একজন আহত এমপি শাহজাহানকে গুলির হুমকি হোতা পিএস পটিয়ায় শিশু হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে থানায় বিক্ষোভ মিছিল। পীরগঞ্জে জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন। ফলের স্বাদ ও গুণগত মান রক্ষায় জোর চট্টগ্রামের ডিসির
আন্তর্জাতিক:
হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন মেসি কুরাসাওকে হারিয়ে ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান
     
             

নাব্যতা সংকটের কারনে মোংলা বন্দরে ভিড়তে পারছে না বড় জাহাজ

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মোংলা, (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

নাব্যতা সংকটেরক কারনে সময়মত জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না, বালু ডাম্পিংয়ের জায়গা নিয়ে জটিলতায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের ইনারবার ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে জায়গা না পাওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়। নিয়মিত বন্দর চ্যানেল ড্রেজিং করা না হলে দেশি-বিদেশি বড় জাহাজ প্রবেশে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।বিষয়টি স্বীকার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষও। কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেজিংয়ের বালু বা পলি মাটি ফেলার নতুন জায়গা পেতে সময় লাগলেও আপাততো পুরোনো জায়গায় মাটি ফেলে সংকট দূর করা হবে। বিষয়টি খুবই গুরত্ব সহকারে দেখছেন তারা।এদিকে পুরোনো জায়গা হিসেবে মোংলার জয়মনি এলাকায় বালু ফেলার নীতিগত সিন্ধান্ত নেওয়া হলেও তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ অবস্থায় ড্রেজিং প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া নাব্যতা সংকটের কারণে বন্দর জেটিতে আসতে পারছে না ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ।মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া এলাকা থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত এলাকার নাম ‘ইনারবার’। ইনারবারের ২৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার এলাকায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্বোধন করা হয় ২০২১ সালের ১৩ মার্চ। ওই বছরের ১০ এপ্রিল ড্রেজিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। সেসময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৭৯৩ কোটি টাকা।ড্রেজিং করা বালু বা পলি মাটি ফেলার জন্য মোংলা উপজেলায় ৭০০ একর জমি ও খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা এলাকায় ৩০০ একর জমি হুকুম দখল করা হয়। মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকার জমিতে বালু ফেলা হয়। কিন্তু পশুর নদীর পূর্ব পাশের খুলনার বানীশান্তার তিন ফসলি জমিতে বালু ফেলা ঠেকাতে আন্দোলন করেন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন। তাদের আপত্তির মুখে সেখানে বালু ও মাটি ফেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে ড্রেজিং বন্ধ রয়েছে।এ অবস্থায় মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের সানবান্ধা মৌজায় ২৬২ একর জমিতে বালু ফেলার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হলে সেখান থেকে ভূমি মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০২২ সালের জুন মাসে। এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৪ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯২ কোটি টাকায়, যা গত বছরের ৪ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে।এ প্রসঙ্গে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক্স) শেখ শওকত আলী বলেন, ইনারবারের গভীরতা সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মিটার। ড্রেজিং করে সাড়ে আট মিটার করার কথা। ড্রেজিং করা স্থানগুলো থেকে যে পরিমাণ পলি অপসারণ করা হয়েছিল গত প্রায় দুই বছরে তার ৭০ ভাগ পলি আবার জমা হয়েছে। এ অবস্থায় ড্রেজিং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ড্রেজিং কাজ বন্ধ থাকায় এতদিনে পলি পড়ে গভীরতা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ড্রেজারের তেলসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।বালু ফেলার জায়গা সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে কোনো জায়গা না মেলায় পুরোনো জায়গা জয়মনি এলাকায় আপাতত বালু ফেলা হবে। এই কার্যক্রম আগামী সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।মোংলা বন্দরের ইনারবারে প্রায় দুই বছর ড্রেজিং বন্ধ থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাশোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের সবচেয়ে বড় সমস্যা নাব্য সংকট। বন্দর সচল রাখতে হলে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। ড্রেজিং স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে বড় বড় কন্টেইনার জাহাজ আসতে পারবে না। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আসা কয়লাবাহী বড় জাহাজ আসাও বন্ধ হয়ে যাবে। বন্দর ঘিরে রেললাইনসহ বড় মেগা প্রকল্প কোনো কাজেই আসবে না।তিনি বলেন, রেলের মালামাল আসে কন্টেইনারবাহী জাহাজে করে। ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সেই কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসতে পারবে না। তাই দ্রুত ইনারবারে ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page